মুন্সিগঞ্জে বৃষ্টির মধ্যেই জমি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালো দুই পক্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ- অস্ত্রের মহড়া
মুন্সিগঞ্জ, ১২ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দেওয়ানকান্দি এলাকার সরাবেশ সরকারের সঙ্গে বোরহান মিঝি ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর মিঝির বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আলমগির ব্যাপারী, রবিন ব্যাপারী, দুলাল ব্যাপারী, সাব্বির ব্যাপারী, আকতার ব্যাপারী ও দিলা দেওয়ানসহ অন্তত আটজন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত রবিন ব্যাপারী ও দুলাল ব্যাপারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলী অভিযোগ করেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বোরহান মিঝি ও তাঁর লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রুহুল আমিন বলেন, আহতদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুপুরে স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্রের মহড়ার বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।









