মুন্সিগঞ্জে গরুর হাটের ইজারায় কলেজের অধ্যক্ষ-শিক্ষক, সমালোচনা এলাকায়
22

মুন্সিগঞ্জ, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ীতে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে হাটের ইজারার সিডিউল কিনে আলোচনায় এসেছেন একটি কলেজের অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলার বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে বালিগাঁও ইউনিয়নের “বালিগাঁও অস্থায়ী হাট”–এর কাঙ্ক্ষিত মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সিডিউলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা, যা অফেরতযোগ্য।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সিডিউল বিক্রির প্রথম দিনেই “আনিসুল হক” ও “আতাউর রহমান” নামে দুই ব্যক্তি ওই হাটের সিডিউল কেনেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁরা বালিগাঁও আমজাদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আনিসুল হক এবং সহকারী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শিক্ষার পরিবেশ ও একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে এ ধরনের বাণিজ্যিক ইজারা কার্যক্রমে জড়ালে সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কলেজের শিক্ষকরা এখন শিক্ষা কার্যক্রমের চেয়ে হাট-বাজারের ব্যবসায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপক একসঙ্গে গরুর হাটের সিডিউল কেনায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অধ্যক্ষ এস. এম. আনিসুল হক বলেন, “দুটি সিডিউল কেনা হয়েছে। কার নামে রাখা হবে, সেটি এখনো ঠিক হয়নি। কোনো শিক্ষকের নামে সিডিউল কেনার নিয়ম আছে কি না, সেটিও আমার জানা নেই।”

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনগত বাধা না থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে এ ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রচলিত বিধিমালায় সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রকাশ্য ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়। টংগিবাড়ীতেও এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন দুই শিক্ষক।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ