বেহাল সড়কে ভোগান্তি সয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুন্সিগঞ্জের আলিনুর, সংস্কারের দাবি
1

মুন্সিগঞ্জ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনোভাবেই থামাতে পারেনি আলিনুর ইসলামকে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পড়াশোনায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকেও জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি বৃত্তি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বিবিএ কোর্সে পড়ছেন। তবে নিজের শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তিনি দেখছেন গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থাকে।

আলিনুর ইসলাম মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ফুলহার গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, ফুলহার গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আলিনুর জানান, ২০১৩ সালে নির্মাণ করা হয় ফুলহার এলাকার সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগের প্রধান সড়কটি। পরে ২০১৯ সালে বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগের কথা বলে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত সড়কটি সংকুচিত করে প্রায় ৮ ফুট করা হয়। কোথাও কোথাও সড়কটির প্রস্থ আরও কমে প্রায় ৭ ফুটে দাঁড়িয়েছে বলে তাঁর দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির ওপর বিছানো ইটগুলো দীর্ঘদিনের বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপে এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। বর্ষাকালে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ফলে অনেক সময় হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও স্থানীয়রা প্রয়োজনের সময় যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন না।

এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে জানান স্থানীয়রা। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতেও তৈরি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

আলিনুর বলেন, তাঁর মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী একজন শিক্ষার্থীর জন্য এমন সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০২৩ সালে মানবিক বিভাগ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেন এবং জেলায় প্রথম হন। ২০২৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পান। পরে ঢাকা বোর্ডের সাধারণ বৃত্তিতে ১৫৪তম স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান।

তাঁর ভাষ্য, ‘‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গ্রামের রাস্তার অবস্থা অনেক সময় আমার চলার পথকে আরও কঠিন করে তোলে। শুধু আমি নই, পুরো ফুলহার গ্রামের মানুষই দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যে আছেন।’’

আলিনুর আরও বলেন, স্থানীয় যুবকেরা নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও নানা কারণে তা স্থায়ীভাবে করা সম্ভব হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে রাস্তার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এলেও তার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলহারবাসীর পক্ষ থেকে আলিনুরের দাবি, সড়কটি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে রাস্তার উচ্চতা অন্তত দুই হাত বাড়ানো এবং পুরো সড়কটি

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ