বাজানকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনী
ম্যাচজুড়েই আক্রমণের কাজটুকু নিরবিচ্ছিন্নভাবে করে গেলেন জাহিদ; ইকো-কিংসলেরা এনে দিলেন দরকারি গোল। এই তিন ফরোয়ার্ডের হাত ধরে স্পিন ঘর বাজানকে হারিয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনালে উঠে গেল চট্টগ্রাম আবাহনী।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার প্রথম সেমি-ফাইনালে আফগানিস্তানের ঘরোয়া লিগের চ্যাম্পিয়ন বাজানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম আবাহনী এর জয়টি ৩-১ ব্যবধানে।
চট্টগ্রাম আবাহনীর এলিটা কিংসলে দুটি, ইকো স্টিভ থমাস একটি গোল করেন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠা বাজানের একমাত্র গোলদাতা মোহাম্মদ হাশেমী।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত চট্টগ্রাম আবাহনী। কিংসলে-এমিলি-জাহিদ ত্রয়ী গোছালো আক্রমণে যায় কিন্তু কিংসলের শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রুখে দেওয়ার পর এমিলির ফিরতি শটও ফিরে আসে এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে। এরপর জাহিদ শট নিলেও বল পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
চোট নিয়েই আতিকুর রহমান মিশু খেলেছেন চট্টগ্রামের রক্ষণে। তবে মিশু ও আগের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া ইউসুফ ইসার জায়গায় নামা বাইবেক ফনিবাঙ্গে ও রেজাউল করিমে সাজানো রক্ষণভাগের ওপর চাপটা কমে যায় মাঝ মাঠে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস আলো ছড়ালে।
২৪তম মিনিটে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেরা চারে ওঠা চট্টগ্রাম আবাহনী। জাহিদের কর্নারে হেড করেন এমিলি; এরপর বাতাসে ভেসে থাকা বলে ফের হেড করে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ইকো স্টিভ থমাস।
উইং দিয়ে আক্রমণের কাজটি করতে থাকেন জাহিদ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড ৩৪তম মিনিটে ব্যক্তিগত পঞ্চম গোলের দেখা পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তার জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান বাজান গোলরক্ষক হামেদুল্লাহ ইউসুফজাই।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে জাহিদের আরেকটি দারুণ ক্রসে হেমন্ত ছুটে গিয়েও পা ছোঁয়াতে না পারায় ব্যবধান বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্থে জাহিদের শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। মিঠুনের বাড়ানো বলে কিংসলের ভলি লক্ষ্যে না থাকলে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ নষ্ট হয় চট্টগ্রামের দলটি।
৬৬তম মিনিটে রাসেল মাহমুদের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। বদলি খেলোয়াড় রেজাল্লাহর শট আটকে দেন এই গোলরক্ষক।
দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় স্বাগতিকরা। ইকোর ডিফেন্সচেরা পাস খুঁজে পায় কিংসলেকে; নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ড কোনাকুনি শটে দুরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন।
এরপর থেকে গোলের জন্য মরিয়া বাজান শক্তি নির্ভর ফুটবল খেলতে থাকে। আক্রমণের পসরা মেলা জাহিদকে দুইবার বাজেভাবে ফাউল করে হলুদ কার্ড পান অতিথি দলের মোহাম্মদ আফসার ও সাইদ মোহাম্মদ।
৭৯তম মিনিটে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় বাজান। অধিনায়ক গোলাম হযরতের ফ্রি কিকে হেডে চট্টগ্রাম আবাহনী গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মোহাম্মদ হাশেমি।
এম এ আজিজের গ্যালারিতে আসা হাজার পনের দর্শককে ৮৯তম মিনিটে আরও একবার উৎসবে ভাসান কিংসলে। তবে এ গোলটিতে দারুণ অবদান ছিলো জাহিদের। জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের লম্বা ক্রস ধরে বাঁ দিক দিয়ে তড়িৎ গতিতে আক্রমণে যান কিংসলে। সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারদের ছিটকে দিয়ে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করে দেন এই নাইজেরিয়ান।
শেষ দিকেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ অব্যহত রাখে চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে কিংসলেরা ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। তাতে অবশ্য আটকায়নি শফিকুল ইসলাম মানিকের দলের ফাইনালে ওঠা।









