মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় রমরমা ড্রেজার বাণিজ্য
২০৮

মুন্সিগঞ্জ, ২২ এপ্রিল, ২০২২, শ্রীনগর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের কোলাপাড়ায় অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এ কারণে তাদের ভয়ে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়নের উত্তর এবং দক্ষিণ কোলাপাড়া অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের কারণে ধানের জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ওই এলাকার ২নং ওয়ার্ডের নন্দনসার বাড়ির সামনে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি হাজী আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহাবুব শাহ্, বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান জনেট, মাতিন খানের ১টি ড্রেজার পরিচালনা করছেন।

অপরদিকে ৩নং ওয়ার্ডের আরিফের দোকান সংলগ্ন কোলাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি হাসেম হাওলাদারের পরিচালনায় ১টি ড্রেজার চলছে। এছাড়া কোলাপাড়া ইউনিয়নের কালি শিকদার বাড়ীর জায়গা ভরাট করার জন্য একটি ও এর ঠিক পূর্ব দিকের খাল পাড় হলে দেখা যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকের গ্রামের কৃষি জমি ভরাটে আরও একটি ড্রেজার বহাল তবিয়তে চলছে।

এসব ড্রেজারের দীর্ঘ পাইপ লাইনের পুরোটাই ফসলী জমির ওপর দিনে টানা হয়েছে। এতে কৃষি জমিতে কাজকর্মে সমস্যার পাশাপাশি জমিতে আধাকাচা ধান ড্রেজারের মাটি ও মাটিযুক্ত পানিতে নষ্ট হচ্ছে। ফসলের ক্ষতির বিষয়টি জেনেও ভুক্তভোগীরা কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোলাপাড়া এলাকার ওয়াসা রোডের পশ্চিম পাশে ও পূর্ব পাশে ধানি জমির ওপর দিয়ে দীর্ঘ ড্রেজার পাইপলাইন টানা হয়েছে। জমির ধান ইতোমধ্যে পাঁকা শুরু হয়েছে। ড্রেজারের ফুটাফাটা পাইপ থেকে বালু ও ঘোলা পানি পরে ধান নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও জমির ধান মাটিতে চাপা পরেছে। অপরদিকে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াসা রোডের নিচ দিয়ে ছিদ্র করে হাসেম হাওলাদার ড্রেজারের পাইপলাইন সংযোগ দিয়েছেন।

লক্ষ্য করা গেছে, কৃষক লীগ নেতার ড্রেজার দিয়ে নন্দনসার বাড়ির সামনে একটি জলাশয় ভরাটের কাজ এরই মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষতিগ্রস্থ ধান চাষিরা জানান, বৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। এর পরে ড্রেজারের মাটি ও পানিতে জমির ধান আরো নষ্ট হচ্ছে। আমরা কার কাছে অভিযোগ করবো? প্রশাসন দুইবার ড্রেজার উচ্ছেদ করার পরেও রহস্যজনক কারণে আবার চালু হয়েছে। কারন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা ড্রেজার ব্যবসার সাথে জড়িত।

উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি হাজী আব্দুর রহিমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই কি করবো? এলাকার সবাই করে আমরাও করছি। তবে ড্রেজার ব্যবসাটি অবৈধ। ড্রেজারের কারণে ধানের জমির ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ড্রেজারের মূল মালিক রাঢ়ীখালের কবুতর খোলার মাতিন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ড্রেজারটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতির সাথে নতুন চক্তি হয়েছে। তারাই ড্রেজারটি ভাড়ায় পরিচালনা করছেন। কোলাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি হাসেম হাওলাদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম মাহাবুব উল্লাহ্ কিসমতের কাছে ড্রেজার সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে একার ব্যবসা নয়। সবাইকে নিয়েই করা হচ্ছে। ড্রেজার অনুমোদন আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে এমন প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলবেন না। আসেন আলোচনা করি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব আহমেদ জানান, এলাকায় পরপর দু’বার ড্রেজার অপসারণ করেছি। ড্রেজারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লিখিত অভিযোগ করলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ