২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | রাত ২:০৯
হলফনামা বিশ্লেষণ: এসএসসি পাশ আব্দুল্লাহর নিজের বৈধ সম্পদ ৪২ কোটি টাকার, ব্যাংক ‍ঋণ ১ হাজার ১১৪ কোটি
খবরটি শেয়ার করুন:
1614

মুন্সিগঞ্জ, ৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের হলফনামায় উঠে এসেছে সম্পদের নানা চমকপ্রদ তথ্য।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলার তিনটি আসনেই লড়াই হচ্ছে বড় বড় কোটিপতি ও সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে। কেউ যেমন শত কোটি টাকার মালিক ও বিশাল ব্যাংক ঋণের জালে আবদ্ধ, তেমনি কেউ কেউ সাধারণ জীবনযাপন করে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এখানে বিত্তের তুলনায় রাজনৈতিক আদর্শই তাদের মূল পুঁজি।

মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর–সিরাজদিখান): সম্পদের পাহাড় বিএনপি নেতাদের

শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সবচেয়ে সম্পদশালী প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ্ (৬৩)। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।

হলফনামায় আব্দুল্লাহ্ নিজের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে এসএসসি উত্তীর্ণ উল্লেখ করেছেন। তার পেশা- ব্যবসা।

আব্দুল্লাহর হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ৪২ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ১১২টাকার, প্রথম স্ত্রী আয়েশা আব্দুল্লাহর নামে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার, দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজ শিল্পী আব্দুল্লাহর নামে  ৩ কোটি ৬ লাখ, মেয়ে শেখ আজিজা বিনতে আব্দুল্লাহর নামে ২৭ লাখ, মেয়ে শেখ ফারিহা বিনতে আব্দুল্লাহর নামে ২৬ লাখ ও ছেলে শেখ মো. আরাফাত বিন আব্দুল্লাহর নামে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার।

অন্যদিকে, আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন আল মুসলিম গ্রুপের ৭টি সহযোগি প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকার পূবালি, মধুমতি, সিটি, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ও আইডিএলসি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৯০ টাকার।

তার ঘোষিত অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি নিজের নামে শেয়ার, স্ত্রীদের নামে স্বর্ণ ও ডায়মন্ড রয়েছে।

এছাড়া তার নামে লাইসেন্সকৃত একটি শটগান ও ১টি পিস্তল রয়েছে। ।

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া (বর্তমানে মনোনয়ন বাতিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ৭৯ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ টাকার ও মোহাম্মদ মমিন আলীর আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৭২৯ টাকার।

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে।

জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজীর পেশা শিক্ষকতা। আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার মোট বৈধ সম্পদ ২০ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৭ টাকার।

ইসলামী আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান খাঁনের আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ১৯৩ টাকার।

এছাড়া সিপিবির প্রার্থী আব্দুর রহমানের আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রোকেয়া আক্তারের সম্পদ ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার।

প্রসঙ্গত: মুন্সিগঞ্জ ১ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৭জন। এর মধ্যে মীর সরফত আলী সপু ও মোহাম্মদ মমিন আলীর মনোনয়ন প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বর্তমানে বাতিল অবস্থায় রয়েছে। তবে, তারা আপিলের সুযোগ পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে এবং ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে।