৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | দুপুর ২:২৩
সাক্ষাৎকার: দেশ সেরা হয়েও ডেন্টালে পড়ার আগ্রহ নেই ইভার
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৭ এপ্রিল, ২০২২, (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড মডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাসরিন সুলতানা ইভা। ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ২০২১-২২ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের শাখারীবাজার এলাকায় নানা প্রসঙ্গে কথা হয় ইভার সাথে। এসময় ইভার বাবা ও তার সাথে ছিলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমার বিক্রমপুর এর প্রতিবেদক সাইফুল ইসলাম শিথিল।

ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ২০২১-২২ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হয়েছে মুন্সিগঞ্জের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড মডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাসরিন সুলতানা ইভা।

গত রোববার দুপুরে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ইভা লিখিত পরীক্ষায় ৯৪.২৫ নম্বর পেয়েছেন। এর আগে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় সে মেধা তালিকায় ৫০তম স্থান অর্জন করেছিলো। ইভার বর্তমান বাড়ি সদর উপজেলার সিপাহীপাড়ার শাখারিবাজারে। বাবা মো. ইউনুস আলী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের গণিতের প্রভাষক। মা আরজিনা বেগম গৃহিনী। দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ইভা।

সে এ বছর মুন্সিগঞ্জের নয়াগাওয়ে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করে।

ডেন্টালে দেশসেরা হয়ে অনুভুতি কি?

-খুব ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা, ভাবিনি যে ডেন্টালে প্রথম হতে পারবো। কিন্তু প্রথম হতে পেরে খুবই আনন্দিত হয়েছি।

কোন কোন বিষয়ে প্রাইভেট পড়েছেন?

-প্রাইভেট পড়া হয় নি কখনো, কলেজে নিয়মিত ক্লাস করেছি। করোনা মহামারীর সময় অনলাইনে ক্লাস করেছি।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কবে থেকে নেওয়া?

-ইন্টার ১ম বর্ষ থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি তখন থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করেছি একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি।

পড়াশোনা করতে কি কি সমস্যায় পড়তে হয়েছে?

-আমাদের এইচ এস সি পরীক্ষা শর্ট সিলেবাসে হয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও শর্ট সিলেবাসে হবে এমনটি বলা হলেও পরীক্ষার ১ মাস আগে পুরো সিলেবাসে পরীক্ষা হবে এমনটি জানানো হয়। এই বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলাম।

কোথায় ভর্তি হবেন? ডেন্টালে? নাকি মেডিকেলে?

-ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা অনেক আগে থেকেই,, ভর্তি হবো মেডিকেলে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন বিষয়টি নিয়ে পড়তে চান?

-ওইভাবে এখনো ভেবে দেখেনি, এখনো নির্ধারণ করা হয় নি কোন বিষয় নিয়ে পড়বো।

কেনো ডাক্তার হতে চান?

-মানুষের সেবা করার জন্য। আমার মনে হয় এই পেশায় সবথেকে বেশি সেবা করা যায় এজন্য আমি ডাক্তার হতে চাই।

ডাক্তার হয়ে কিভাবে মানুষকে সেবা দিবেন বলে মনে করেন?

-ডাক্তারদের প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক চিন্তা সেটা দূর করতে চাই, যেহেতু দেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের, তাদের সেবা করতে চাই। ডাক্তারি পেশাকে অনেকেই ব্যবসায় পরিণত করেছেন এরকম চিন্তাধারা পাল্টাতে চাই।

আপনার সফলতার পেছনে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি?

-আমার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা দুজনের ভূমিকাই সব থেকে বেশি। আমার মনে হয় যতটুকু পরিশ্রম আমি করেছি ততোটুকু তারাও করেছেন। আমার কখন কি দরকার এই বিষয়ে তারা সর্বক্ষন খেয়াল রেখেছেন।

আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে সহযোগিতা করেছে?

-আগেই বলেছি ইন্টার মিডিয়েটে কারো কাছে প্রাইভেট পড়িনি। কলেজের স্যাররা খুবই আন্তরিক ছিলেন, যখনই পড়া নিয়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি স্যারদের সাহায্য চাইলে তারা সাহায্য করেছেন। পড়া বুঝিয়ে দিয়েছেন। সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি কি করতে পছন্দ করেন?

-ছবি আকতে পছন্দ করি, ঘুরতে পছন্দ করি ও ঘুরার সময় এর ভিডিওচিত্র ধারণ করতে পছন্দ করি। আপনি প্রতিদিন কয় ঘন্টা পড়াশোনা করেন? ঘড়ি দেখে পড়া হয়নি কখনো, কিন্তু পড়েছি নিয়মিত। প্রত্যেক দিনের পড়া প্রত্যেক দিন শেষ করার চেষ্টা করেছি। অন্যান্য কাজ করে সময় নষ্ট করতাম না।

ইভার হাতে আঁকা ছবি।

শিক্ষার্থীদের জন্য আপনি কি পরামর্শ দেবেন?

-মেডিকেলে হোক আর যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় হোক আমার পরামর্শ হলো মূল বইটা খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। গাইডবই নির্ভর হওয়া যাবে না। বুঝে বুঝে পড়তে হবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি, ইন্টারনেটটা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।

ইভার বাবা ইউনুস আলী বলেন, আমার মেয়ে এত সুন্দর রেজাল্ট করেছে সকলের দোয়া ও সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায়। মেয়েটি যাতে পড়াশোনা করে ভালো ডাক্তার হতে পারে মানুষের সেবা করতে পারে। মেয়ের পড়াশোনায় যাতে কোন রকম বাধা না আসে সেটা নিয়ে সবার কাছে দোয়া চাই।

error: দুঃখিত!