১১ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | রাত ১০:৪৩
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
শ্রীনগরে পঞ্চম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর জোরপূর্বক গর্ভপাত
খবরটি শেয়ার করুন:

শ্রীনগরে ধর্ষণের পর ৪ মাসের অন্তসত্তা পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর জোর পূর্বক গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে।

গর্ভপাতের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা ওই স্কুল ছাত্রী এখন শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর দরিদ্র পিতা বাদী হয়ে সোমবার শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্কুল ছাত্রীর বাবার ভাষ্য মতে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব দেউলভোগ এলাকার মাতৃহীন ওই স্কুল ছাত্রী একই এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। গত মে মাসের মাঝামাঝি প্রতিবেশী মৃত আলী হোসেন এর স্ত্রী শিউলী বেগম রাতে একা ঘুমাতে ভয় পান এই অজুহাতে ওই স্কুল ছাত্রীকে তার সাথে ঘুমাতে বলেন। পরে শিউলী বেগম মাতৃহীন ওই স্কুল ছাত্রীকে পড়ালেখা শিখিয়ে ভাল ঘরে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এর পর থেকে ওই স্কুল ছাত্রী শিউলী বেগমের বাড়ীতেই অবস্থান করতো।

গত পহেলা জুলাই বিকালে শিউলী বেগমের অনুপস্থিতিতে তার ঢাকায় বসবাসরত ছেলে শাওন (২৭) ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরদিন ওই স্কুল ছাত্রী বিষয়টি শাওনের মা শিউলী বেগমকে জানালে সে ছেলের পক্ষ নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে উল্টো শাসায়। মায়ের আস্কারা পেয়ে শাওন এর পর আরো কয়েকবার ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে ওই স্কুল ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পরে। গর্ভ ধারণের বিষয়টি বুঝতে পেরে শাওন গত ১৯ অক্টোবর কৌশলে ঢাকায় নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে মিডফোর্ট হাসপাতালের আশপাশের কোন একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করায়। পরে ওই ছাত্রীর শারীরীক অবস্থা খারাপ দেখে শাওন তাকে ধুপখোলার ঘুন্টিঘর এলাকায় স্কুল ছাত্রীর বড় বোনের বাসার সামনে রেখে আসে। পরে বড় বোনের সহায়তায় ওই স্কুল ছাত্রী এলাকায় ফিরে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। স্কুল ছাত্রীর অসহায় পিতা বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য সমাজ পতিদের দ্বারে দ্বারে ধরণা দিতে থাকেন। তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি সোমবার থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা বাড়ী ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

error: দুঃখিত!