২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৯:৩৯
মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার আফরোজা মিতা
খবরটি শেয়ার করুন:
502

মুন্সিগঞ্জ, ৯ নভেম্বর ২০২৫, ডেস্ক রিপোর্ট (আমার বিক্রমপুর)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী এবং ঢাকা মহানগর জিয়া মঞ্চের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার আফরোজা ফিরোজ মিতা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

আইন পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর গ্রামের এই আইনজীবী জানান, ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট এবিএম ফিরোজ ছিলেন জেলা বারের প্রেসিডেন্ট, বিএনপির পিপি ও রেডক্রিসেন্টের দীর্ঘদিনের সেক্রেটারি। বাবার আদর্শ ও মানবসেবার চেতনা থেকেই রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় মিতার।

‘পড়াশোনা শেষ করে কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করি জাতীয়তাবাদী ফোরামের মাধ্যমেই। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তখন থেকেই রাজনীতি শুরু হয়,’ বলেন ব্যারিস্টার মিতা।

রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল-এর চেম্বারে কাজ করার সময়। তিনি জানান, বিএনপির নেতৃত্বে থাকা ওই চেম্বার থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।

আইনজীবী ফোরাম ও লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের পক্ষে কাজ করছেন। মিতা বলেন, ‘আমার এলাকা যেহেতু মুন্সিগঞ্জ, আর আমার বাবাও ছিলেন দলের অভিভাবকসদৃশ ব্যক্তিত্ব -তাই যখন দলের কেউ সাহায্য চাইতেন, যথাসাধ্য সহায়তা করতাম।’

রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবায়ও সক্রিয় এই আইনজীবী। তাঁর সহায়তায় গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা তিনি নিজেই পরিচালনা করেন।

“শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত থাকি, সহায়তা করি,” বলেন তিনি।

নারীর অবস্থান ও সুযোগ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মিতা মনে করেন- যোগ্যতা ও মেধাই নারীর আসল শক্তি।

‘আমার বিশ্বাস ছেলে-মেয়ে বলে কিছু নেই। যেটা ছেলে পারে, যোগ্যতা থাকলে মেয়েও তা পারবে। আমি যোগ্যতায় বিশ্বাসী’ বলেন তিনি।

তবে তিনি স্বীকার করেন, পেশাগত জীবনে এখনো পুরুষের প্রাধান্য বেশি।

‘ব্যাকগ্রাউন্ড শক্ত না থাকলে মেয়েদের জন্য এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন’- বলেন মিতা।

তাঁর পরামর্শ, মেয়েদের লেগে থাকতে হবে, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে হবে।

ব্যারিস্টার মিতা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় লিগ্যাল এইড কমিটিতে কাজ করছেন। তিনি জানান, সারাদেশ থেকে আসা দরিদ্র মামলাকারীদের অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দেন।

‘আমার মাথায় সব সময় কাজ করে- ১০টা মামলা করলে ২টা ফ্রি করব। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জের মামলাগুলো আমি বিনা পারিশ্রমিকে করার চেষ্টা করি,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অনেক সময় মামলার কোর্ট ফি বা যাতায়াতের খরচ পর্যন্ত বহন করেন।

সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জে “ব্যতিক্রম” নামের একটি সংস্থা ও “ড্যাব”-এর যৌথ উদ্যোগে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেন তিনি, যেখানে শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পান।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মিতা বলেন, ‘আমার কাছে রাজনীতি মানে মানবসেবা। মুন্সিগঞ্জ আমার জন্মভূমি, তাই এই জেলার উন্নয়নেই কাজ করতে চাই।’

তিনি মনে করেন, রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো ও উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ বেশি। তাই সুযোগ পেলে তিনি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চান।

‘ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে হলেও মুন্সিগঞ্জ যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। এতদিন বড় বড় মন্ত্রী-প্রেসিডেন্ট থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন হয়নি- আমি চাই এটা বদলাতে।’

ব্যারিস্টার আফরোজা ফিরোজ মিতা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী জেলা মুন্সিগঞ্জ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনে বিশাল সম্ভাবনাময়।

‘পদ্মা নদী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করতে পারলে এখানে পর্যটনের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে’ বলেন তিনি।

শেষে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, মুন্সিগঞ্জের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকুক। ব্যক্তিগতভাবে, সামাজিকভাবে, উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে আমি পাশে থাকতে চাই।’

প্রসঙ্গত; ব্যারিস্টার আফরোজা ফিরোজ মিতা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপির রাজনীতির সক্রিয় কর্মী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।