১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | দুপুর ২:৪২
মুন্সিগঞ্জ আদালতে আসামিকে মারধর করায় বাদীপক্ষের ১২ জনকে ৪ ঘন্টার সাজা
খবরটি শেয়ার করুন:
114

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ জুলাই ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে স্বামী কতৃক স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি মো. সুমনকে (৫০) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ হতে বিচারকার্য শেষে কোর্ট হাজতে নেওয়ার সময় আদালতে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের কনস্টবল আবু তাহের রোবেল ও সুমন খানের সামনে মারধরের দায়ে বাদীপক্ষের ৪ জনকে ৪ ঘন্টা আটকে রেখে সাজা প্রদান করা হয়।

গতকাল সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ৮ম তলার বারান্দায় মামলার বাদীসহ তাদের আত্মীয় স্বজনেরা আসামি সুমনকে পুলিশের বাধা সত্ত্বেও চর থাপ্পড় মারতে শুরু করে।

আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের লোকজনের মধ্য হতে অভিযুক্ত সদর উপজেলার নৈদিঘির পাথর গ্রামের আকলিমা (৬০), শফিজল ইসলাম (৩০), মফিজুল ইসলাম (৩৮) ও মাসুদ রানাকে (৪৯) পুলিশ আটক করে।

এ ঘটনায় কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম মিঞা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জাস্টিস অফ পিস) গাজী দেলোয়ার হোসেনের সম্মুখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত উপস্থাপন করেন।

প্রকাশ্য আদালতে উক্ত লিখিত অভিযোগের বিষয়ে শুনানিকালে অভিযুক্ত ওই ৪ জন তাদের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এসময় আদালতে বিচারকের জিজ্ঞাসায় অভিযুক্ত ৪ জন তাদের সঙ্গীয় একই গ্রামের আল আমিন (৩২), বর্ষা আক্তার (২৭), মুক্তা বেগম (২৫), বীথি আক্তার (২৭), হেলেনা বেগম (৬১), শাহিন (৫৫), শাহাদাত হোসেন পাপ্পু (৩২), রাসেল (৩৩) তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে।

এসময় বিচারিক আদালত সকল অভিযুক্তকে প্রকাশ্য আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলে সকলেই আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমার প্রার্থনা করেন।

অভিযুক্তরা প্রকাশ্য আদালতে ভবিষ্যতে এ রকম গর্হিত কাজ করবেননা বলে মুচলেকা দিতে চান। উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আদালত অভিযুক্তদের হত্যা মামলায় তাদের স্বজন হারানোর ব্যথা আবেগ ও অনুভূতি এবং আদালত প্রাঙ্গণে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধের বিষয় বিবেচনা পূর্বক অভিযুক্ত সকলকে আদালতের ডকেটে ৪ ঘণ্টার জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

এ ব্যাপারে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ২৫ ধারার বিধান মতে আদালত (জাস্টিস অফ পিস) এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালতের ডকে ৪ ঘণ্টার জন্য অভিযুক্তদের আটক রাখার আদেশ দেন। পরে অভিযুক্তরা সৎ ব্যবহারের মুচলেকা দাখিল করায় আদালত তাদের মুক্তি দেন।

এ ব্যাপারে হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আরিফ আহম্মেদ জানান, মামলার বাদীর মেয়ে মিতু আক্তার শ্রাবন্তিকে কুপিয়ে হত্যা করায় আজ আদালতে আসামিকে দেখে তারা সহ্য করতে না পেরে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এর জন্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্য আদালতে ক্ষমা চেয়েছে। আদালত তাদের ৪ ঘণ্টা ডকে আটক রেখে মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি দেন।

প্রসঙ্গত: গেল ২০ মে সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার পূর্বপাড়া এলাকায় মিতু আক্তার শ্রাবন্তীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করায় তার স্বামী মো. সুমনকে আটক করে পুলিশ। পরে আসামি সুমন আদালতে হত্যার বিষয়ে দোষ স্বীকার করেন। হত্যা মামলায় সোমবার আসামিকে বিচারকার্য শেষে পুলিশ হেফাজত নেওয়ার সময় অভিযুক্তরা সুমনকে মারধর করে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।