২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | ভোর ৫:১৮
মুন্সিগঞ্জে ৬৩ শিক্ষকের বেতন বন্ধ, ভোগান্তি পরিবারে
খবরটি শেয়ার করুন:
342

মুন্সিগঞ্জ, ৭ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

উচ্চতর গ্রেড বাতিলের ফাঁদে হঠাৎ করেই মুন্সিগঞ্জ সদরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩ জন সহকারি শিক্ষকের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সদর উপজেলার ৪৩ টি বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকরা চলতি মাসে বেতন উত্তোলন করতে পারেননি। গত অক্টোবর মাসের বেতন না পাওয়ায় ওইসব শিক্ষকদের পরিবারে নেমে এসেছে অনামিশার অন্ধকার। পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন ভোগান্তিতে।

জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে এসব শিক্ষক সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। ১০ বছর পূর্তিতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তারা উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হন। সেই মোতাবেক তাদের বেতন হয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন সেই সুবিধাভোগ করে আসলেও পূর্ব ঘোষনা বা লিখিত কোনো নির্দেশনা ছাড়াই হঠাৎ করেই অক্টোবর মাসের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।

এদিকে, শিক্ষকদের বেতন বন্ধে কারণ হিসেবে জেলা হিসাব রক্ষন কার্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একে অপরকে দোষারোপ করছেন। তাছাড়া গত বুধবার বেতন বন্ধের কারণ জানতে হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরন করেন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ।

এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাতের বরাবরে ওই অডিট অফিসারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সদর উপজেলার নৈরপুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, চলতি বছরের গত ২০ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের আলোকে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মেহেদী হাসান শরীফ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এসব শিক্ষকের উচ্চতর গ্রেড বাতিল হতে পারে বলে জানান। এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, এরপর চলতি মাসে আমরা গত অক্টোবর মাসের বেতন উত্তোলন করতে গিয়ে দেখি আমাদের বেতন হয়নি। এ বিষয়ে জানতে আমারা শিক্ষা অফিসে গেলে বলা হয় জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশ এসেছে। কিন্তু সেই চিঠি কেউ আমাদের দেখাতে পারেনি।

সদরের ইদ্রাকপুর ১ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, চাকরিতে যোগদানের ১০ বছর পর আমরা উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হই। সেই মোতাবেক আমাদের বেতন হয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই চলতি মাসে বেতন উত্তোলন গেলে বাঁধে বিপত্তি। অক্টোবর মাসের বেতন হয়নি আমাদের। এ অবস্থায় চলতি মাসে কোনো বেতন তুলতে পারিনি। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকের পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে।

এ শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, বেতন বন্ধের বিষয়ে জানতে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে গেলে সেখানে দায়িত্বে থাকা অডিটর অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই কর্মকর্তা তাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ পর্যন্ত করেছেন। এমনকি হিসাবরক্ষন কার্যালয়ে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ বলেন, তাদের সাথে খারাপ আচরণ ও গালাগালি করার দাবি মিথ্যা। তারা উল্টো ২০-২৫ জন নিয়ে এসে আমাকে হুমকি দিয়েছে। আর তাদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের চিঠির কারনে।

পক্ষান্তরে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মোমিন মিঞা বলেন, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের লিখিত চিঠির প্রেক্ষিতে ওইসব শিক্ষকের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেড উন্নীতকরণ সমস্যায় বেতন আটকে গেছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ওই শিক্ষকরা আগের গ্রেডে নিয়মিত বেতন পাবেন। এতে ১৫-১৬ দিন সময় লাগতে পারে।