মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের অভিযোগে বিএনপি নেতা আটক
43

মুন্সিগঞ্জ, ২ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের প্রধান ফটোসাংবাদিক কবির হোসেন ও তাঁর ছোট ভাই তকবির হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত কবির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দোসরপাড়া এলাকায় কবির হোসেনের পরিবারের পরিচালিত একটি লালন চর্চাকেন্দ্র রয়েছে। ওই চর্চাকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার চর্চাকেন্দ্রের সীমানা বেড়ার কাজ চলাকালে একদল ব্যক্তি সেখানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কবির হোসেনকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ছোট ভাই তকবির হোসেনকেও মারধর করা হয়।

আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, লতব্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে। হামলায় তাঁর ছেলে তৌহিদ মাদবর, জাহেদ মাদবর, আলাউদ্দিন মাদবর, শাহরিয়ার মাদবর, সংগ্রাম, সাহিল ও আহম্মদ মাদবরসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহানারা আক্তার জানান, কবির হোসেনের মাথা ও দাঁতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কবির হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লালন চর্চাকেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে তিনি আপত্তি জানালে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে হামলার ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করেছে।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান জানান, হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ