মুন্সিগঞ্জে মাদকের অভিযানের নামে প্রবাসীর ঘর থেকে টাকা ও মোবাইল নেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
31

মুন্সিগঞ্জ, ২ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় মাদকের অভিযানের নামে এক প্রবাসীর ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে।

সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে শহরের সরকারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজ মিস্ত্রীর কাজ করেন। তাঁর শ্বশুর অসুস্থ থাকায় স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। শ্বশুরের চিকিৎসা ও সংসারের খরচের জন্য দুদিন আগে তিনি তাঁর জমিয়ে রাখা ৫০ হাজার টাকা ঘরে এনে রাখেন।

আব্দুল মান্নানের ভাষ্য, সোমবার রাতে তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় মুন্সিগঞ্জ সদর ফাঁড়ির এএসআই শিমুলসহ তিনজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁর বাড়িতে যান। তাঁরা মাদকের অভিযানে এসেছেন বলে জানিয়ে তাঁকে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে আটকে রাখেন এবং এএসআই শিমুলসহ দুজন ঘরের আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় তল্লাশি করেন।

মান্নানের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নিয়ে যান এএসআই শিমুল। পরে টাকা ফেরত চাইলে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। টাকা নিয়ে আসার আগে তাঁরা আমাকে ছেড়ে দেয়। গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে আমাকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়।

আব্দুল মান্নান বলেন, আমি মাঝে মধ্যে মাদক সেবন করি, এটি সত্য। কিন্তু আমার কাছে কোনো মাদক ছিল না। ৫০ হাজার টাকা ছিল আমার শেষ সম্বল। অপরাধ থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারতো, কিন্তু পুলিশ আমার টাকা কেন নিলো? আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে শিমুলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এর আগেও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় পঞ্চসার ইউনিয়নের ডিঙাভাঙা থেকে সিদ্দিক নামে সদর থানার এক এসআই মাদকের অভিযানে গিয়ে টাকা নিয়ে ধরা পড়ে। এবার এ এসআই শিমুল টাকা ও মোবাইল নিয়ে গেলো। সদর থানা এলাকায় শিমুলদের একটি সিন্ডিকেট আছে যারা মাদক ব্যবসায়িদের সঙ্গে মাসিক ভিত্তিতে লেনদেন করছে কখনো আবার অভিযানে গিয়ে এভাবে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের কাজ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও তাঁদের মন্তব্য।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সদর ফাড়িঁর এ এসআই মো. শিমুল শাহ। তিনি বলেন, কোন টাকা, মোবাইল ফোন নেওয়া হয়নি। আমি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযানে যাই, তখন ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। এর বেশি কিছু হয়নি।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ