মুন্সিগঞ্জে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভেতর মিললো শ্রমিকের মরদেহ
মুন্সিগঞ্জ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে মো. বিল্লাল হোসেন (৬০) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় নিউ হোপ কোম্পানির পিপি স্টোররুম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তীরচর গ্রামের ফজলু বেপারীর ছেলে। তিনি প্রায় আট বছর ধরে নিউ হোপ কোম্পানির প্রোডাকশন বিভাগে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিল্লালের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের মেয়ের জামাই আবু মুসা বলেন, ভোরে ঘটনা ঘটলেও তাঁদের সকালে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে বিল্লাল অসুস্থ বলে জানানো হলেও পরে স্ট্রোক করার কথা বলা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, মরদেহ একটি গাড়িতে করে প্রতিষ্ঠানের গেটের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে কয়েক ঘণ্টা তাঁদের বসিয়ে রেখে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, তাঁর স্বামীর দুই কানের পাশে কাটা এবং মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রায় ১৫ দিন আগে স্টোরের ম্যানেজার ও তাঁর ভাই বিল্লালকে মারধর করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ ও সাংবাদিকরা আসার আগে ঘটনাটি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বাতাগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিল্লালের রক্তাক্ত মরদেহ একটি গাড়িতে দেখতে পান তাঁরা। তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ নয়, বরং ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে নিউ হোপ কোম্পানির প্রোডাকশন বিভাগের এজিএম সালাউদ্দিন বলেন, বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করতেন। স্টোররুমে অসাবধানতাবশত ফর্কলিফটের দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই শ্রমিক একজন ঠিকাদারের অধীনে দৈনিক হাজিরায় কাজ করতেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।









