মুন্সিগঞ্জে আলোচিত আরিফ হত্যা মামলার আসামি এনায়েতের জামিন নামঞ্জুর, বোনকে হুমকির অভিযোগ
মুন্সিগঞ্জ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার চর শিলমন্দি গ্রামের আরিফ হোসেন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এনায়েত মিয়ার (৪০) জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান এ আদেশ দেন।
আসামি এনায়েত মিয়া মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য সুলতান আহমেদের ছোট ভাই। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ হোসেন বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে এনায়েত মিয়া উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলে গত ৯ আগস্ট তাঁকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেওয়া হয়। জামিনের মেয়াদ শেষে রোববার তিনি নিম্ন আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর শিলমন্দি গ্রামের মৃত মতিন বেপারীর ছেলে আরিফ হোসেন (৩৭) পেশায় কসাই ছিলেন। মাংস বিক্রির পাওনা ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত ৩ জুন তাঁকে ও তাঁর ভাইকে খুঁজতে গিয়ে আসামিরা হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ১৪ জুন ভোরে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জসিমনগর এলাকার একটি অনাবাদি জমি থেকে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত আরিফের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে ১৪ জুন মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় এনায়েত মিয়াকে এজাহারে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, এনায়েতের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে তাঁদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ করেছেন নিহত আরিফ বেপারীর বোন সিমা আক্তার। তিনি বলেন, কোর্টের ভেতরে এনায়েতের গ্রেপ্তারের পর এনায়েতের লোকজন মতিন, নাহিম ও বাপ্পিসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা ও হুমকি দিয়েছেন। এ সময় তাঁর এক ভাইকেও পুলিশি হস্তক্ষেপের মধ্যে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিমা আক্তারের দাবি, ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা বের করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলা ও হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।









