মুন্সিগঞ্জে প্রতারণা মামলায় বিএনপি নেতার জামিন, বললেন- আমি এখনো পদে আছি
মুন্সিগঞ্জ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জে বিএনপির দলীয় প্যাড ও পদবি ব্যবহার করে এক চিঠির প্রেক্ষিতে ‘মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা’র মামলায় জামিন পেয়েছেন শহর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া মাহবুব উল আলম স্বপন।
জামিনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি আগেও মুন্সিগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ছিলাম এবং আজকে পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব। এর আগে আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে মর্মে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়েছিল সেটি ভুয়া’
আজ সোমবার দুপুরে আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্দানা রহমান মামলার শুনানি শেষে এ জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বকুল বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গতকাল কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাহবুব আলম স্বপনসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ১৫ নেতাকর্মীকে বহিস্কার সংক্রান্ত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের চিঠিটি বানোয়াট ও ভুয়া।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই নেতা।
মাহবুব উল আলম স্বপনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ৩০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন দেওয়া হয়। ওই আবেদনে বিএনপির দলীয় প্যাড ব্যবহার এবং নিজেকে ‘শহর বিএনপির সদস্যসচিব’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ কয়েকজনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের বিষয়টি গোপন রেখে স্বপন বিএনপির দলীয় পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বপন ধানের শীষের বিপরীতে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছিলেন।
মোখলেছুর রহমান বকুল অভিযোগে দাবি করেন, বহিষ্কৃত হওয়ার পরও দলীয় পদবি ও প্যাড ব্যবহার করে মাহবুব উল আলম স্বপন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এ ঘটনায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
এদিকে, জামিনের পর মাহবুব উল আলম স্বপন আরও বলেন, আমরা প্রতিপক্ষ না। একই মায়ের দুই ভাই। যার প্ররোচনায় এই মামলাটি হয়েছে আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন।’
মামলার শুনানি শেষে গণমাধ্যমে কথা বলার সময় তার সাথে জেলা বিএনপির বহিস্কৃত সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মুহাম্মদ মাসুদ রানাসহ অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত; ২০২২ সাল থেকে মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সদস্য সচিব ছিলেন মাহবুব উল আলম স্বপন। ২০২৬ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নিজ দলের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী জেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্য সচিব (পরে বহিস্কৃত) মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেন এই নেতা। একপর্যায়ে ২৮ জানুয়ারি পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনিসহ জেলা কমিটির আরও ৩ শীর্ষ নেতা। জাতীয় নির্বাচনে মহিউদ্দিনের পরাজয় হলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বিএনপির এই পক্ষটি।








