মুন্সিগঞ্জে দলীয় পদ ব্যবহারে প্রতারণার অভিযোগে পদত্যাগ করা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
24

মুন্সিগঞ্জ, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া এক নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় প্যাড ও পদবি ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাহবুব উল আলম স্বপন নামের ওই সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সদর থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বকুল।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন মামলার তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ৩০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন দেওয়া হয়। ওই আবেদনে বিএনপির দলীয় প্যাড ব্যবহার এবং নিজেকে ‘শহর বিএনপির সদস্যসচিব’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মোখলেছুর রহমান বকুল।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ কয়েকজনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের বিষয়টি গোপন রেখে স্বপন বিএনপির দলীয় পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বপন ধানের শীষের বিপরীতে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছিলেন।

মোখলেছুর রহমান বকুল অভিযোগে দাবি করেন, বহিষ্কৃত হওয়ার পরও দলীয় পদবি ও প্যাড ব্যবহার করে মাহবুব উল আলম স্বপন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এ ঘটনায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

এদিকে, মামলার বিষয়ে মাহবুব উল আলম স্বপন বলেন, দল থেকে আমাকে বহিস্কারের যে কাগজটি ছড়ানো হয়েছিল সেটি আমরা যাচাই করে দেখেছি ভুয়া। আমরা মৌখিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিলাম দল ছাড়ার এটা সত্যি কিন্তু কোন লিখিত দেইনি। তাছাড়া দল থেকেও আমরা বহিস্কারের কোন কাগজ পাইনি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা দুঃখজনক। দীর্ঘ ১৭টি বছর লড়াই করেছি, দুর্দিনে বিএনপির হাল ধরেছি। আমি বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবো।

প্রসঙ্গত; ২০২২ সাল থেকে মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সদস্য সচিব ছিলেন মাহবুব উল আলম স্বপন। ২০২৬ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নিজ দলের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী জেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্য সচিব (পরে বহিস্কৃত) মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেন এই নেতা। একপর্যায়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ আরও কয়েকজনকে বহিস্কারের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি আমার বিক্রমপুর।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ