মুন্সিগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে যুবক হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের
মুন্সিগঞ্জ, ১৫ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আরিফ হোসেন (৩৭) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নিহত আরিফ হোসেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চর শিলমন্দি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কসাইয়ের সহকারী ছিলেন।
মামলা ও স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আরিফের ছোট ভাই আকাশ বেপারীর সঙ্গে চরকিশোরগঞ্জ এলাকার কসাই নূর মোহাম্মদের মাংস কেনাবেচা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনের সূত্রে নূর মোহাম্মদের কাছে আকাশের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে টাকা আদায় করতে গিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে প্রায় ছয় মাস আগে আকাশ মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেছিলেন।
স্বজনদের দাবি, গত শনিবার সকালে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে আকাশ নূর মোহাম্মদকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি মুন্সিরহাট বাজার কসাই সমিতিকে জানালে সমিতির সদস্যরা নূর মোহাম্মদকে নিজেদের জিম্মায় রাখেন।
এসময় শহরের যোগিনীঘাট এলাকার বাসিন্দা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমেদের ছোট ভাই এনায়েত হোসেন দলবল নিয়ে মুন্সিরহাট বাজারে গিয়ে নূর মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাজারের লোকজন এনায়েতকে মারধর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এনায়েত আকাশ ও আরিফকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা আরিফদের বাড়িতে গিয়ে দুই ভাইকে খোঁজাখুঁজি করেন। তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরে বিকেলেও তারা দলবল নিয়ে বাড়িতে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতার কারণে শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আরিফ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরদিন রোববার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার জসিমনগর এলাকার একটি ঘাসের জমিতে তার মরদেহ পড়ে আছে।
নিহতের মা ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধ এবং পাওনা টাকা সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রোববার সকালে জসিমনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘাসের জমি থেকে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।









