মুন্সিগঞ্জে এইচএসসি কেন্দ্রের সামনে গুলি, গ্রেপ্তার দিপুর নামে ৩ মামলা
মুন্সিগঞ্জ, ৩০ জুন ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ, পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধার, মাদক জব্দ ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে এই ৩ মামলারই বাদী হয়েছেন হাতিমাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান।
গতকাল রোববার রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা রুজু হয়।
একইদিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে রামপাল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রাইভেটকারে অটোরিকশার ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এসময় সাব্বির হোসেন ওরফে দিপুকে (২৯) দুই রাউন্ড গুলি, একটি ২২ বোরের রিভলবার, ৭০ পিস ইয়াবা ও প্রাইভেটকারসহ আটক করে পুলিশ। এসময় ধস্তাধস্তিতে আহত হন ৩ পুলিশ সদস্য।
গ্রেপ্তার দিপু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার মাজদাইর এলাকার হাজী আবুল কালাম তালুকদারের ছেলে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, হাতিমাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এএসআই) এমদাদুল হক (৪২), পুলিশ সদস্য সাজেদুর রহমান (২৬) ও রবিউল আলম চৌধুরী (৪৯)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগ থেকে কেন্দ্রের সামনের সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছিলো পুলিশ সদস্যরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় কেন্দ্রের সামনের সড়ক দিয়ে একটি প্রাইভেটকার দিঘিরপাড়ের দিকে যাচ্ছিলো। একইপথে আরেকটি অটোরিকশা যাওয়ার সময় প্রাইভেটকারের সাথে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকার চালক সাব্বির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে গাড়ির ভেতর থেকে পিস্তল বের করে মোটরসাইকেল চালককে গুলি করার হুমকি দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যান। সেসময় পুলিশ সদস্যরা প্রাইভেটকার চালককে ধরতে আসেন। পরে পুলিশ এবং প্রাইভেট কার চালকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন সাব্বির হোসেনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। এসময় ভাঙচুর করা হয় তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি।
ঘটনার সময় দিপুর সাথে আরও দুই সহযোগী থাকলেও তারা পালিয়ে যান।
এ ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অন্যদিকে আটক সাব্বির হোসেনকেও হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
আহত পুলিশের উপপরিদর্শক এমদাদুল হক জানান, আমরা যখন ওই যুবককে জিজ্ঞাসা করতে সামনে যাই তখন সে আমাদের লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। আমরা কোনমতে প্রাণে রক্ষা পাই। এর মধ্যে এক পুলিশ সদস্য পানিতে পড়ে গিয়ে আহত হয়। তবে আমাদের লক্ষ্য ছিলো সাধারণ মানুষের যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, ৩ রাউন্ড গুলির খোসা ও ২ রাউন্ড তাজা গুলিসহ রিভলবারটি জব্দ করা হয়েছে। এসময় ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। ঘটনার সময় ওই যুবকের সাথে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি থানা হেফাজতে রয়েছে।
ওসি জানান, আটককৃত সাব্বির হোসেন ওরফে দিপু দুর্ধর্ষ ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একাধিক অস্ত্র-মাদকের মামলা রয়েছে। মুন্সিগঞ্জে অস্ত্র-মাদক উদ্ধার ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।


