মুন্সিগঞ্জের পলাতক অগ্রনী ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান ঢাকার গ্রেপ্তার
মুন্সিগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে আমার বিক্রমপুর।
শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার অফিসার ক্যাশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন শরিফুজ্জামান সোহাগ। তার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে টাকা গ্রহণ এবং পরে সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে ব্যাংকটির সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় ও বিক্ষোভ দেখা যায়। টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন তারা।
দুই দিনে ২৩০ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার ১৮৪ জন এবং সোমবার আরও ৪৬ জন গ্রাহক অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা দাবির কথা উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোট অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা শরিফুজ্জামানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে নয়, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন করেছেন। ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের কার্যালয়ে এ ধরনের লেনদেন চললেও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি কীভাবে জানতে পারেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যাংকের অপর কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত কি না এবং অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানিয়েছিলেন, শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনেও বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সৌরভ জমাদ্দার জানান, গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একটি টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। গ্রাহকরা যাতে তাদের টাকা ফেরত পান, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শরিফুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তার সঙ্গে আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে।








