মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলে পূর্ব শত্রুতার জেরে ৪ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
79

মুন্সিগঞ্জ, ২ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবকের বসতবাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের চারজনকে রামদা, হাতুড়ি ও হকিস্টিক দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চরকেওয়ার গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক মো. ইমরান মোল্লা (২৬) বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— চরকেওয়ার এলাকার মো. খোরশেদ সরকার (৫৫), নূর মোহাম্মদ সরকার (৩৫) ও মো. সিয়াম (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকেওয়ার গ্রামের মো. নূরুল ইসলাম মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত খোরশেদ সরকার ও তাঁর লোকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। আজ দুপুরে সেই বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইমরানদের বাড়িতে চড়াও হন। বাড়িতে ঢুকে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে ইমরান তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১ নম্বর আসামি খোরশেদ সরকারের হুকুমে অন্য আসামিরা ইমরানের ওপর চড়াও হন।

লিখিত অভিযোগে বাদী ইমরান মোল্লা উল্লেখ করেন, মারধরের একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ সরকার তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ মারেন। এতে তাঁর মাথার তালু কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় খোরশেদ সরকার হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকান, এতে তাঁর বাম হাতের কবজি ভেঙে যায়। ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কিশোর সিয়াম হকিস্টিক দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করতে গেলে তা বাম হাতের কনুইতে লেগে গুরুতর জখম হয়।

ইমরানের চিৎকার শুনে তাঁকে বাঁচাতে বাবা নূরুল ইসলাম মোল্লা (৬৫) ও মা রিনা বেগম (৫৫) এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। খোরশেদ সরকার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নূরুল ইসলামের মাথার পেছনে রক্তাক্ত জখম করেন। আর সিয়ামের হকিস্টিকের আঘাতে মা রিনা বেগমের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। পরে ইমরানের ভাবি কানিস ফাতেমা (১৮) এগিয়ে এলে তাঁকে পিটিয়ে নীলাফোলা জখম করা হয়।
​হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় ইমরানের ঘরের জানালার থাইগ্লাস ও দরজা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করে।

পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, চরকেওয়ার এলাকায় মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ