মুন্সিগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ, রাতেও অনুভূত হচ্ছে ভ্যাপসা গরম
মুন্সিগঞ্জ, ২ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। দিনের প্রখর রোদের পাশাপাশি রাতেও কমছে না গরমের তীব্রতা। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় মঙ্গলবার সারাদিনের পর সন্ধ্যার পর থেকে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জেলার সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই তীব্র রোদে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যায়। খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতার কারণে স্বস্তি মিলছে না।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ঢাকা বিভাগের আশপাশের এলাকাতেও গরমের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অস্বস্তিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের তুলনায় রাতের গরম বেশি কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। ফ্যানের বাতাসেও স্বস্তি মিলছে না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।
এদিকে তীব্র গরমের প্রভাবে মুন্সিগঞ্জের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপও বাড়তে শুরু করেছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জ্বর, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও হিটস্ট্রোকজনিত উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য জেলাতেও চলমান তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চার দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৩ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৪ জুনের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে এবং গরমের তীব্রতা হ্রাস পেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ সময়ে প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া, বেশি বেশি পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে জনস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।









