২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | রাত ২:৩৮
মুন্সিগঞ্জের আলোচিত গুয়াগাছিয়ায় ককটেল-রামদাসহ গণপিটুনির শিকার ৩ জন আটক
খবরটি শেয়ার করুন:
268

মুন্সিগঞ্জ, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

সন্ত্রাস-আধিপত্য ও ডাকাতির ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আলোচিত জনপদ গুয়াগাছিয়ায় গণপিটুনির শিকার ৩ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দিয়ে আটক দেখানো হয়েছে।

আহতদের পাশ থেকে ২১ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি রামদা, ২০টি ককটেল ও ৬টি পেট্রোল বোমা পাওয়া যায়।

আজ শুক্রবার সকালে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া প্রাইমারি স্কুলের সামনে থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিদের দাবি, আধিপত্য বিস্তারের জেরে তারা আলোচিত নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস বাহিনীর কাছে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। পরে অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।

পিটুনিতে আহতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আবু হানিফ (৪২), চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে রাসেল (২৫) ও গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের মুজাফফর বেপারীর ছেলে লোকমান (৩০)।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের নিয়ে আসে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তারা কোন পক্ষের বা পুরো ঘটনাটি কি তা উদঘাটনে কাজ চলছে।

গণপিটুনির শিকার লোকমান নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমরা ডাকাত নই। আমাদের প্রতিপক্ষ নয়ন-পিয়াস গ্রুপের লোকজন গতকাল রাতে আমাদের মারধর করে জনতার হাতে তুলে দিয়েছে। এই ভোতা অস্ত্র, পেট্রোল বোমা নিয়ে কেউ ডাকাতি করতে আসে? এসব অস্ত্রও তাদের দেওয়া।’

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নূরে আলম জিকু জানান, ‘এ ঘটনায় আহত ৩ জনকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। আহতদের মধ্যে লোকমান ও আবু হানিফের অবস্থা ভালো নয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাত-পা ভেঙে গেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এক্স-রে করতে দেওয়া হয়েছে। এক্স-রে রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বলতে পারব।’