বাড়ৈখালি-মদনখালি: সড়ক সংস্কারেও বৈষম্য, অর্ধেক ঠিকঠাক- অর্ধেক বেহাল
মুন্সিগঞ্জ, ৫ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
এবার সড়ক সংস্কারে বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালি-মদনখালি সড়কে। আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হলেও রহস্যজনক কারণে বাকি এক কিলোমিটার অংশ ফেলে রাখা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন জনগণের ভোগান্তি কমছে না, অন্যদিকে সংস্কার হওয়া অংশটিও নতুন করে নষ্ট হয়ে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। অবস্থা এতটাই নাজুক যে, বৃষ্টির দিনে এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়। কোথাও কোথাও সড়ক কাঠামোর সকল উপাদান সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে সড়কের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার মত উপায় নেই। এই অবস্থায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় নাগরিকদের। অন্তঃসত্ত্বা নারী বা মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ঝুঁকি পোহাতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কটি দিয়ে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালি ইউনিয়নের মদনখালী, খাহ্রা, বাড়ৈখালী গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন বাজার-ব্যাংক-কলেজ-ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের অর্ধেক পেড়োনোর পর বাকি অংশে পাড় হতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। প্রায়ই যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন খানাখন্দ-গর্তে পরে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩-৪ বছর ধরে পুরো সড়কটিই ভাঙাচোরা ছিলো।বিগত সরকারের শেষ সময়ে সড়কটি সংস্কারে মদনখালি থেকে দেড় কিলোমিটার অর্থাৎ অর্ধেক অংশে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বাকি রয়ে যায় সড়কের আরও এক কিলোমিটার অংশের কাজ।
বাড়ৈখালি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক সেন্টু বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কারণে এলাকার মানুষের কাছে কথা শুনতে হয়। অর্ধেক অংশের কাজ করে বাকি অর্ধেক কেন করা হয়নি জানিনা। প্রশাসন বলেছে, করে দিবে। কিন্তু কবে হবে জানিনা। এদিকে, আগে যে অংশের কাজ করেছিলো সেগুলো আবার নষ্ট হয়ে আগেরমত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে কাজ না করে পুরো রাস্তার কাজটি একবারে করার দরকার ছিলো।
স্থানীয় মদনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলেন, স্কুলে যাওয়ার পথে মনে হয় যে কোন সময় অটো উল্টে যেতে পারে। সবসময়ই একটা ভয়ের মধ্যে থাকি। আর ভাঙ্গা রাস্তায় যাইতেও দেরি হয়।
পথচারী হাবিব খন্দকার বলেন, স্থানীয় অনেক এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়। কিন্তু এই এলাকায় হয় না। হলেও, অর্ধেক অর্ধেক করে হয়। চরম বৈষম্যের স্বীকার আমরা।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে মানুষ চলাচল করে আর প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়ে। বিগত সরকারের সময় কি করা হয়েছে তা তো সবাই জানে। এখন বর্তমান সরকারের প্রশাসনের কাছে দাবি- তারা যেন সড়কটি সংস্কারে এগিয়ে আসে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীনগর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আ. বারিক বলেন, রাস্তাটির বাকি অংশের কাজ করে দেয়া হবে। চেষ্টা করছি আগামী জুনের দিকে প্রকল্প নেয়ার। তবে আমি ছুটিতে আছি। বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না। উর্ধ্বতনরা বলতে পারবেন।
পরে তার উর্ধ্বতন শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।


