বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাই ত্রাণ পাবে, আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর করে দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য, কৃষকদের ঋণ ও বীজ এবং শিক্ষার্থীদের নতুন বইও দেবে সরকার।
রোববার দিনাজপুর জেলা স্কুলে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণের আগে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সকাল ১১টায় দিনাজপুরে এসে পৌছান।
শনিবার পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত দেশের ৩০ জেলার ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এবারের বন্যায় ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সারা দেশে ৯৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
দিনাজপুর জেলা স্কুলে ত্রাণ বিতরণের আগে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বন্যায় যাদের ঘর ভেঙ্গেছে তাদের ঘর করে দেওয়া হবে, যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে তাদের ফসল না উঠা পর্যন্ত খাদ্য সহযোগিতা করা হবে।”
বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে কৃষিঋণসহ বীজ সরবরাহ করা হবে। বন্যার পানিতে যাদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে গেছে তাদের নতুন বই দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা হবে।”
দেশে খাদ্যের মজুদ ‘পর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, “গত আট বছরে কোনো মঙ্গা হয়নি। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে উত্তরাঞ্চলের এক সময়ের মঙ্গা দূর করেছিলাম। আমরা সব মানুষের জন্য খাদ্য-বাসস্থানের ব্যবস্থা করব।”
ত্রাণ বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার তেঘরা উচ্চ বিদ্যালয় ত্রাণশিবিরে ত্রাণ বিতরণ শেষ করে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছিলেন।


