প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে পণ্যবাহী ট্রেলারের ধাক্কায় দেয়াল ধসে প্রাণ গেছে শিশুর
মুন্সিগঞ্জ, ৭ আগস্ট ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার জামালদিতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ট্রেলার ট্রাকের ধাক্কায় দেয়াল ধসে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক শিশু। পরে উত্তেজিত জনতা হোসেন্দী-জামালদি সড়ক একঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটার দিকে হোসেন্দী-জামালদী সড়কের হাজী সিরাজুল হক স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সারাফাত (৫) উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। আহত জামিয়া (৫) একই গ্রামের বিল্লাহ হোসেনের মেয়ে।
নিহত শিশু সারাফাতের চাচা আলী হোসেন মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা দুজনেই হাজী সিরাজুল হক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত শিশু শারাফাত এবং আহত শিশু জামিয়া সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। সকালে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে প্রাইভেট পড়তে যাবার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় তারা।
এসময় রাস্তায় স্থানীয় সামুদা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির একটি পণ্যবাহী ট্রেলার ট্রাক জামালদী বাস স্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। গাড়ি দেখে তারা রাস্তার পাশের দেয়ালের দিকে সরে যায়। কিন্তু ট্রেলার ট্রাকটি দেয়ালটিতে ধাক্কা দিলে সেটি দুই শিশুর উপর ধসে পড়ে। এ সময় আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে শারাফাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল পৌনে চারটার দিকে মারা যায় সে।
দুর্ঘটনার পর পর উত্তেজিত জনতা দিনের বেলায় এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির মালবাহী ট্রাক বন্ধের দাবিতে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ট্রেলার ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে গজারিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাদের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে প্রায় এক ঘন্টা পরে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সম্পর্কে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে সামুদা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়া হলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তবে তাদের পক্ষ থেকে এক কর্মকর্তা এসে জানান, ‘ট্রেলার ট্রাকের মালিক আমরা নই। আমরা একটি এজেন্সি থেকে গাড়ি ভাড়া করে আনি। গাড়ি সংক্রান্ত বিষয়ে সকল দায়ভার তাদের’।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘এরকম একটি খবর আমি পেয়েছি। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি স্থানীয় জনতা আটক করেছে আমরা তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলাম। দুই পক্ষের সাথে আমার কথা হয়েছে। আজ বিকেলে বিষয়টি নিয়ে আমরা বসব’।


