তিতাসের গ্যাস ‘উধাও’: ৩ দিন ধরে চুলা জ্বলছে না মুন্সিগঞ্জের বাসাবাড়িতে
60

মুন্সিগঞ্জ, ১৪ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

গ্যাসের সংযোগ আছে, নিয়মিত বিলও দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সেই গ্যাসই নেই। মুন্সিগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে তিতাস গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। অনেক বাসাবাড়িতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চুলা জ্বলছে না। কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে আগুন ধরলেও তা টিকছে না।

ফলে রান্নাবান্না বন্ধ রেখে কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, কেউ আবার বাধ্য হয়ে তেলের চুলা, ইলেকট্রিক চুলা কিংবা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ছুটছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও কর্মজীবী সদস্য থাকা পরিবারগুলোকে।

পঞ্চসার ইউনিয়নের দশকানি এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী ইউজিন ম্রং বলেন, গত তিন দিন ধরে বাইরে বাইরে খেতে হচ্ছে। আজও সকাল থেকে গ্যাস নেই। এভাবে তো আর চলা সম্ভব না। এখন তেলের চুলা কিনতে যাচ্ছি। গ্যাসের বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে, কিন্তু গ্যাসই যদি না থাকে তাহলে আমরা কী করব?

শুধু দশকানি নয়, মুন্সিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা রুপা বেগম বলেন, সকাল থেকে চুলা জ্বলছে না। রান্না করতে না পারায় খুব সমস্যায় পড়েছি। সংসারে ছোট বাচ্চা আছে। বাইরে থেকে খাবার কিনে কত দিন চলা যায়? গ্যাসের সমস্যা হলে আগে থেকে জানালে অন্তত বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত।

সিপাহীপাড়া এলাকার আফিফা জাহান বলেন, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের মত পড়ে আছে। আজ ৪ দিন হলো এ পরিস্থিতি। কবে ঠিক হবে কেউ বলতে পারছে না। এভাবে তো চলা যায় না।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহের এমন পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। মাসের পর মাস বিল দিতে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু গ্যাস না থাকলে গ্রাহকের ভোগান্তির দায় কে নেবে—এমন প্রশ্নও তুলছেন তারা।

একজন আবাসিক গ্রাহক বলেন, গ্যাসের বিল নেওয়ার সময় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু গ্যাস দেওয়ার সময় সংকটের কথা বলা হয়। আমাদের তো রান্না বন্ধ রেখে বসে থাকার সুযোগ নেই। অফিসে যেতে হবে, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হবে—সবকিছুর সঙ্গে রান্নার বিষয়টিও জড়িত।

আরেক গ্রাহক বলেন, এক-দুই ঘণ্টা গ্যাস কম থাকলে বিষয়টি মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু দিনের পর দিন চুলায় আগুন না জ্বললে সেটা আর স্বাভাবিক সমস্যা থাকে না, এটা মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি আঘাত।

গ্যাস সরবরাহের এই সংকটের বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ার) শরীফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “শুধু মুন্সিগঞ্জ নয়, সারাদেশেই এই পরিস্থিতি হয়েছে। এলএনজি টার্মিনালে সংকটের কারণে এটা হয়েছে।”

তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

শরীফুল ইসলাম বলেন, “চার-পাঁচ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে তাও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।”

তিতাসের পক্ষ থেকে সমস্যাটিকে জাতীয় পর্যায়ের সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সরাসরি গ্রাহকদেরই। রান্নার মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে যুক্ত একটি সেবা দিনের পর দিন ব্যাহত হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ