২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৭:৩৪
চীন, ভারত, ফ্রান্সের মত দেশের প্রথম তারের সেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ-চাঁদপুরে
খবরটি শেয়ার করুন:
928

মুন্সিগঞ্জ, ৯ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

ভারতের রাজীব গান্ধী সমুদ্র সেতু, চীনের সুটং ইয়াংজি নদী সেতু, ফ্রান্সের মিলাউ ভায়াডাক্ট কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো-ওকল্যান্ড বে ব্রিজের মতো এবার বাংলাদেশেও নির্মিত হতে যাচ্ছে ঝুলন্ত (কেবল স্টেড) সেতু। মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর ওপর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা সংযুক্ত করতে তৈরি হচ্ছে এই আধুনিক সেতু।

২০২৬ সালে শুরু হবে নির্মাণকাজ। সেতু বিভাগ জানিয়েছে, এটি হবে দেশের প্রথম ঝুলন্ত সেতু, যা আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তিতে নির্মিত হবে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সেতুর নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনে আসেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি জানান, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুর-মুন্সিগঞ্জ হয়ে ফেনী ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি বিকল্প দ্রুতগতির যোগাযোগ রুট গড়ে উঠবে। এটি জাতীয় মহাসড়ক এন-১-এর বিকল্প পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা তহবিলের আওতায় প্রকল্পটির অর্থায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান সচিব। ইতিমধ্যে প্রাথমিক চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে এবং অর্থ ছাড়ের পরপরই টেন্ডার আহ্বান ও নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারোদ্দৌলা ভুলু চৌধুরী বলেন, ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দৃষ্টিনন্দন সেতুটি হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা রক্ষায় ২৫ মিটার উঁচু ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে। সেতুর সঙ্গে থাকবে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক-যার মধ্যে ফোর লেন মূল রাস্তা ও দুই পাশে সার্ভিস লেন থাকবে।

তিনি আরও জানান, নদীভাঙন রোধ ও সেতুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আড়াই কিলোমিটার নদীশাসনের কাজ করা হবে। পাশাপাশি মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রশস্ত করে উন্নতমানের রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ১০২ কোটি টাকা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া, যা আসবে এক্সিম ব্যাংক ও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে। বাকি ৬৬০ কোটি টাকা সরকারি অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে।