গৃহবধূ হালিমার দাফন সম্পন্ন: গলায় সালোয়ার বাঁধার রহস্য উদঘাটনে পিবিআই, আটক ৪
মুন্সিগঞ্জ, ৩০ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজের চার দিন পর ফুলদী নদী থেকে গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ হালিমা আক্তারের (২০) মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ময়নাতদন্ত শেষে হালিমার মরদেহ দাফন করা হয়। নিহত হালিমা আক্তার ওই গ্রামের দিনমজুর মহসিন মিয়ার মেয়ে।
হালিমার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, তাকে হত্যা করার আগে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতের বাবা মহসিন মিয়া বলেন, মাত্র পাঁচ মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। তবে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় গত দুই থেকে আড়াই মাস ধরে সে আমাদের বাড়িতেই থাকছিল। গত মঙ্গলবার বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু সেখানে না পৌঁছানোয় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করি। পরে লোকমুখে খবর পেয়ে বড় মেয়ের জামাই গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে।
গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে বিকেলে হালিমা আক্তার তার বড় বোন বৃষ্টির শ্বশুরবাড়ি উপজেলার মীরেরগাঁও গ্রামে যাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর গন্তব্যে পৌঁছাননি। পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের চার দিন পর শুক্রবার সকালে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর সংলগ্ন ফুলদী নদীর তীর থেকে গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হালিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের রহস্য এবং এর পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা উদঘাটনে পিবিআই ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।







