কালজয়ী গান ‘আমি তো মরে যাবো’র স্রষ্টা মুন্সিগঞ্জের সন্তান বাউল আব্দুস সাত্তার মোহন্তের জন্মজয়ন্তী আজ
১৭

মুন্সিগঞ্জ, ৬ নভেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

“আমি তো মরে যাবো, চলেই যাবো, রেখে যাবো সবই / আছিস রে তুই কোন ধেয়ানে আমার পাগল মনছবি…”— বাংলার আকাশ-বাতাস, শহর কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথে বহুবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে এই কালজয়ী মরমী গানটি।

মানুষের জীবনের নশ্বরতা আর আধ্যাত্মিক চেতনার এক পরম সত্যকে যিনি এতো সহজ ও সুরের মায়াজালে বেঁধেছেন, তিনি আর কেউ নন— মুন্সিগঞ্জের কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত বাউল কবি, গীতিকার ও সুরকার আব্দুস সাত্তার মোহন্ত। আজ ৮ই নভেম্বর, লোকসংগীতের এই মহান সাধকের ৮৪তম জন্মজয়ন্তী।

১৯৪২ সালের আজকের এই দিনে মুন্সিগঞ্জ (তৎকালীন বিক্রমপুর) জেলার লৌহজং উপজেলার অন্তর্গত কুড়িগাঁও গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী।

প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে প্রকৃতির পাঠশালা আর আধ্যাত্মিক সাধনা বরাবরই তাকে বেশি টেনেছিল। আর সেই টানেই তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন বাংলা লোকসংগীতের অতল গভীরে।

মরমী সাধনা ও অবিনশ্বর সৃষ্টি

আব্দুস সাত্তার মোহন্ত কেবল একজন সাধারণ গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমাপের সাধক ও গীতিকবি। দেহতত্ত্ব, মুর্শেদী, গুরুপ্রেম এবং ঐশী প্রেমের ওপর ভিত্তি করে তিনি প্রায় ছয় শতাধিক গান রচনা ও সুর করেছেন। তার সৃষ্টির পরতে পরতে মিশে আছে মানুষের জীবনের অনিত্যতা ও পরমাত্মার খোঁজে ব্যাকুলতা। তার লেখা গানগুলোর মধ্যে ‘আমি তো মরে যাবো’ গানটি বাংলা সংগীত জগতের এক অমূল্য সম্পদ, যা আজও সমানভাবে শ্রোতাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়।

বেতার থেকে টেলিভিশন: সঙ্গীত জীবনের ব্যাপ্তি

মাটির গানকে সাধারণ মানুষের কান অব্দি পৌঁছে দিতে তিনি অবিরাম কাজ করেছেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ বেতারে (তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ) নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান গাওয়া শুরু করেন এবং ১৯৯১ সালে বিটিভি’র একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে স্বীকৃতি পান। রেডিও এবং টেলিভিশনের পর্দায় একতারা হাতে তার মরমী পরিবেশনা শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট করে রাখতো।

এক কীর্তিমানের প্রস্থান ও লোকসংস্কৃতির শূন্যতা
২০১৩ সালের ৩১শে মার্চ এই মহান বাউল সাধক চিরতরে চোখ বোজেন। গানকে ভালোবেসে, সুরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা এই মানুষটি চলে গেলেও রেখে গেছেন এক বিশাল সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

আজ তার জন্মদিনে মুন্সিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও দেশের বাউল সমাজ তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাংলার এই খাঁটি লোকঐতিহ্য ও আব্দুস সাত্তার মোহন্তের সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানুষের হৃদয় মন্দিরে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন তার একতারা আর কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ