১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | ভোর ৫:০১
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
কারেন্ট জালের অভিযানে গিয়ে ইউপি সদস্যের নির্দেশে হামলার শিকার ৭ পুলিশ সদস্য
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৮ এপ্রিল, ২০২২, সদর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিপাথর গ্রামে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নির্দেশে হামলায় আহত হয়েছে পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর, তিনজন সাব ইন্সপেক্টর, একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক সহ দুইজন কন্সটেবল।

ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মাইকিং করে পুলিশকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হামলা করতে উস্কানি দেয়া হয় গ্রামবাসীদের। এসময় পুলিশ আত্নরক্ষার্থে ১১ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে।

রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টা’র দিকে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিরপাথর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

আহত ৭ পুলিশ সদস্য হলেন- মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. মোজাম্মেল হোসেন, সাব ইন্সপেক্টর ফরিদ হোসেন, সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নজরুল, সাব ইন্সপেক্টর মো. খসরু, সহকারী উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন, কন্সটেবল মো. রায়হান, কন্সটেবল মো. আশিক। এদের মধ্যে সাব ইন্সপেক্টর ফরিদ, সাব ইন্সপেক্টর নজরুল ও কন্সটেবল রায়হানকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ দুপুরে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাজিব খাঁন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সদর থানার ৭ পুলিশ সদস্য নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করছিল। এসময় পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. ইমরান হোসেনের ভাই মো. সম্রাজ হোসেনের জালের ফ্যাক্টরির ভিতর অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করছিল পুলিশ। এ সময় অতর্কিতভাবে শতাধিক মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় পুলিশের ওপর। তখন পুলিশ আত্নরক্ষার্থে শর্ট গানের ১১ রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে। তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার মো. ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালায় স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক আছে ইউপি সদস্য ইমরান হোসেন ও তার ভাই সম্রাজ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম জানান, পুলিশ ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল ও সিভিল পোশাকেও ছিল। আটক ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুমন দেব জানান, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।

error: দুঃখিত!