করোনা: মুন্সিগঞ্জে ৯০ শতাংশরেও বেশি রোগীর উপসর্গ নেই
মুন্সিগঞ্জ, ২১ এপ্রিল, ২০২০, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ মহামারি করোনায় আক্রান্ত মোট রোগীর ৯০ শতাংশরেও বেশি রোগীর শরীরে কোন উপসর্গ নেই। বাকিদের মাঝে দেখা গেছে মাঝারি থেকে মৃদু উপসর্গ। আবার অনেকের করোনা ‘পজেটিভ’ পাওয়ার সময় উপসর্গ ছিলো। কিন্তু এখন নেই। তারাও এখন ভালো আছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এসব তথ্য জানান।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল কালাম আজাদ ‘আমার বিক্রমপুর’ কে জানান, ‘মুন্সিগঞ্জের করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভালো আছেন। বেশিরভাগ রোগীই তাদের নিজ বাসায় সঙ্গরোধ অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়ে উদ্বেগ কম।’
তিনি বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জে প্রথম আক্রান্তের ২-৪ দিন পর থেকে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা সবাই ঐ আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সংশ্লিষ্ট। উপসর্গ না থাকাটা ভালো আবার নতুন কেউ নিজের অজান্তেই আক্রান্ত হলে সেক্ষেত্রে খারাপ।’
সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কারন তাদের উপসর্গ নেই বলে তারা বাইরে ঘুড়ছেন কিন্তু দেখা গেলো তার সংস্পর্শে নতুন একজন আক্রান্ত হলো। সেই জন্য ঘরে থাকাটাই বেশি দরকার। এখনই সবকিছু ভালো ভালো বলে আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না।’
মুন্সিগঞ্জে করোনা আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীদের শরীরে উপসর্গ না থাকার বিষয়টি স্বস্তিদায়ক নাকি উদ্বেগের এমনটা জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাঃ মোঃ এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উপসর্গ না থাকাটা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু করোনা সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তাই রোগীরা যদি বাড়িতেই থাকে যদি খারাপ কিছু না ঘটে সে নিজেও ভালো হয়ে যাবে এবং হয়তো সমাজের মধ্যেও সেটা সংক্রমণ ঘটবে না।’
মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন বলছেন, ‘উপসর্গ থাকুক আর না থাকুক যারা সরাসরি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বা যাঁদের জ্বর-সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের পরীক্ষা করে দেখার যে নিয়ম, তা-ই মেনে চলা হবে।’
উল্লেখ্য, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যেও গত সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রথম মুন্সিগঞ্জে একসাথে দশজন করোনা ‘পজেটিভ’ রোগীর খবর আসে। শুরু থেকেই এ সংক্রান্ত সকল খবর আসছিলো জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে।
সিভিল সার্জন অফিসের আজকের (২১ এপ্রিল) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জে করোনা ‘পজেটিভ’ রোগীর সংখ্যা ৫১ জন।
এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় ১২ জন, টংগিবাড়ী উপজেলায় ১০ জন, গজারিয়া উপজেলায় ৮ জন, লৌহজং উপজেলায় ৫ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ১১ জন এবং শ্রীনগর উপজেলায় ৫ জন সহ সর্বমোট ৫১ জন।
৫১ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে তারা মারা যাওয়ার পর। আর একজন মারা গেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়। সর্বমোট মৃত্যু ৬।





