১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | রাত ৩:১৬
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরান-লেবাননে নিহত বেড়ে ৭৪২, ১৭৬ জনই শিশু
খবরটি শেয়ার করুন:
65

মুন্সিগঞ্জ, ৩ মার্চ ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‌‌হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জনই শিশু।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে প্রকাশিত সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতের পাশাপাশি ৯ শতাধিক বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও শত শত মৃত্যুর খবর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন আবাসিক ভবন ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানী তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরের একটি মসজিদ এবং শহরের বেশ কিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে একটি গভর্নরের কার্যালয় এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে বন্দর আব্বাসের শহীদ বাহোনার জেটিতে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের বেশ কিছু হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান সরকার।

এইচআরএএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কুর্দিস্তান প্রদেশের সানান্দাজ শহরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদর দপ্তর এবং সীমান্তরক্ষা কমান্ড সেন্টার অন্যতম। এছাড়া ইসফাহানের একটি বিমান ঘাঁটি এবং তেহরানের একটি সেনাবাহিনী ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মানবাধিকার সংস্থার এই তথ্যগুলো তারা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। এইচআরএএনএ নিজেও জানিয়েছে যে, তাদের এই বিশ্লেষণ প্রাথমিক এবং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি গতকাল সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রণালিটি এখন থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। কোনো জাহাজ এটি পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সেটি পুড়িয়ে দেবে।’

গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে জাব্বারি আরও জানান, তারা তেলের পাইপলাইনগুলোতেও হামলা চালাবেন এবং এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবেন না।

জাব্বারির দাবি, এই উত্তেজনার ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি ডলারের ঋণে জর্জরিত মার্কিনিরা এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তারা জেনে রাখুক, এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না।