১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | সকাল ১০:৪২
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু কারাগারে, আনা হবে একদিনের রিমান্ডে
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১২ মে ২০২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে একদিনের রিমান্ডে আনা হবে মিঠুকে।

রোববার দুপুরে মিঠুকে আদালতে তোলা হলে গজারিয়ার আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় মিঠুকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চাওয়া হয়েছিলো।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৯ টার দিকে ঢাকার শাহজাহানপুরের একটি বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে মনিরুল হক মিঠুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, গেল ৮ মে (বুধবার) সকাল থেকে হোসেন্দি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছিল। ওই কেন্দ্রে চেয়ারম্যান মিঠু ও তাঁর লোকজন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বেলা আড়াইটার দিকে মিঠু লোকজন নিয়ে ওই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। এসময় তাঁরা আনারস প্রতীকে সিল মারেন। এতে দেড় ঘণ্টা ধরে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু আবারও কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করেন তাঁরা। এ সময় ওই কেন্দ্রের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বদিউজ্জামান এলে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন মিঠুর লোকজন। ঘটনা শুনে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁদের ওপর মুহুর্মুহু ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা, হাতবোমা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পুনরায় ওই কেন্দ্রের দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন মিঠুরা। তাঁদের হামলায় সাদ্দাম (২৪) ও সোহাগ (২৫) নামে দুই পুলিশ আহত হন।

পরদিন বৃহস্পতিবার ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, কেন্দ্র দখল, গাড়ি ভাঙচুর ও অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাঁধার অভিযোগে গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় হোসেন্দি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হককে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মনিরুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আনারস প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থক ছিলেন।

একই ইউনিয়নের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটকেন্দ্রের বাইরে সোহেল নামের পুলিশের এক সদস্যকে মারধর করেন মনিরুল হক মিঠু, তার ভাই ইকবাল হক স্বপন ও তাদের ভাতিজা ‍তানভির হক তুরিনের লোকজন। সেই দৃশ্য ধারণ করার সময় দৈনিক মানবজমিনের মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ও মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি গোলজার হোসেনের মুঠোফোন, আইডি ও পর্যবেক্ষক কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে মনিরুল হকের নির্দেশে তাঁর ভাই-ভাতিজা, ভাগিনারা মারধর করেন। এ ঘটনায় মনিরুল হকসহ ১৮ জনকে আসামি করে আরো একটি মামলা করেন সাংবাদিক গোলজার হোসেন। সে মামলার প্রধান আসামিও মনিরুল হক মিঠু।

error: দুঃখিত!