‘আমির হামজা স্যারই ডিলটা করছে, দেড় লক্ষ টাকায় বিনিময়ে ৫ জনকে ছাইড়া দেয়া হইছে’
235

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ জুন ২০২৫, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ ৫ জনকে থানায় আটকের পর তাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রীনগর থানায় কর্মরত পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। তবে ওই পুলিশ সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে থানার ওসির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।

আটক ও টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ভুক্তভোগী ৫ জনের মধ্যে একজন। তার নাম সম্পদ সরকার।

সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন রাত দশটার দিকে শ্রীনগর থানায় কর্মরত এসআই আমির হামজা (বিপি নং ৭৭৯৪০৪১২১৯), কনস্টেবল ইব্রাহিম খলিল (বিপি নং ৮৪০৪০৮৯১২১) টহল ডিউটি করার সময় শ্রীনগর উপজেলাধীন গোয়ালীমান্দ্রা এলাকা হতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে সন্দেহজনক হিসাবে সম্পদ শিকদার (২৫), মো. আকাশ শেখ (২৬), মো. অন্তর (২৭), মো. হানিফ (২৬) ও মো. পান্নুকে (২৮) আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। আটককৃতরা সবাই ভাগ্যকুল মান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে মো. হানিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাইকোলজি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

পরদিন আটককৃতদের আদালতে প্রেরণের কথা থাকলেও দুপুরে তাদের থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ছাড়া পাওয়ার পর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী সম্পদ সরকার ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সাংবাদিকদের কাছে পাঠান।

ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কালকে রাতে আমাদের যে ঝামেলাটা হয়েছিলো ফেরিঘাটের ওই রোডে, গোয়ালিমান্দ্রা। ওইখান থেকে আমির হামজা স্যার আমাদের ধরেছিলো। ওইখান থেকে আমির হামজা স্যারই ডিলটা করছে, দেড় লক্ষ টাকায় বিনিময়ে আমাদের ৫ জনকে ছাইড়া দেয়া হইছে। দেড় লক্ষ টাকায় ডিলটা পুরা ফাইনাল হইছে, টাকা হাতে পাওয়ার পরে আমাদের ছাইড়া দিছে। আমরা এখন আসছি বাসায়, কিন্তু টাকা দেড় লক্ষ উনি নিয়ে নিছে।’

ভিডিওতে বক্তব্য দেয়া সম্পদ সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে আকাশ শেখ নামের আরও একজনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যবহৃত নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ভিডিওতে অভিযুক্ত শ্রীনগর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আমির হামজা বলেন, ‘স্থানীয়রা দৌড়ে ছিনতাইকারী হিসাবে ওই ৫জনকে আটক করে আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এসময় তাদের কাছে একটি ছুড়ি পাওয়া যায়। পরে রাতে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে রাখি। পরদিন দুপুরে আমি আদালতে প্রেরণের জন্য আটককৃতদের রেডি করছিলাম। এসময় থানার ওসি স্যার আমাকে বলেন সবাইকে ছেড়ে দিতে হবে। আমি তার কথা অনুযায়ী আসামীদের ছেড়ে দেই। টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানিও না। আমি এক কাপ চা ও খাই নাই কেউর, একটা পানও খাই নাই। বরংচ আমার কাছে দুইজন লোক আসছিলো আমি তাদেরকে খাওয়াইয়া রাত্রে বিদায় দিছি। আমি দুইজন লোকের নামও দিতে পারি, আপনি তাদের জিজ্ঞেস করতে পারেন। টাকা-পয়সার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না নিশ্চিত থাকেন হান্ড্রেড পার্সেন্ট। আমি এসপি স্যারের কাছে আসছি-উনার কাছে এ বিষয়টা বলবো। আমি একটা তদন্ত চাইছি, যদি আমার বিচার হয় হবে।’

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকিল আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় যারা আটক হয়েছিলেন তাদের ছেড়ে দিতে আমি বলছি। যাচাই-বাছাই করে দেখছি তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। আর ছুরি যে কোন মানুষের কাছে থাকতেই পারে।’

উপপরিদর্শক আমির হামজার বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘টাকা আদায়ের অভিযোগ সঠিক না।’

মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘ভিডিওতে যে দাবি করা হয়েছে সেটি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হবে কে জড়িত আর কে জড়িত না।’

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ