আজ থেকে শুরু প্রচারণা: দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পছন্দ ‘ফুটবল’, বাকিরা পেয়েছেন দলীয় প্রতীক
মুন্সিগঞ্জ, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
এবারের সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জের ভিন্ন দুইটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাত্র দুইজন। কিন্তু এদের নিয়েই আলোচনা-আবেদন সর্বমহলে। গতকাল বুধবার ২০ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত দিনে তাই সকলের দৃষ্টি ছিলো এই দুই প্রার্থীর প্রতীকের দিকে।
সকালে প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি সংক্রান্ত সভা শুরু হয়। দুপুরে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর ঘোষণার পর অবশেষে তারা নিজেরাই প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল’ পছন্দ করেন।
পরে রিটার্নিং অফিসার তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেন।
ওই দুই প্রার্থী হলেন- মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে মমিন আলী ও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মো. মহিউদ্দিন। একইসময় বাকি ১৭ জন পান তাদের নির্ধারিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।
মুন্সিগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসন থেকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ২৩ জন। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন ৪ জন। সবশেষ এখন প্রার্থী ১৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির ৩ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন, এনসিপির ১ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ জন ও স্বতন্ত্র ২ জন।
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর একেএম ফখরুদ্দিন রাজি ‘দাড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে এম আতিকুর রহমান ‘হাতপাখা’, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আব্দুর রহমান ‘কাস্তে’, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রোকেয়া আক্তার ‘আপেল’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিন আলি ‘ফুটবল’।
মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাজেদুল ইসলাম পেয়েছেন তার দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে এম বিল্লাল ‘হাতপাখা’, জাতীয় পার্টির নোমান মিয়া ‘লাঙল’ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আশিক মাহমুদ পেয়েছেন ‘চেয়ার’।
অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মো. কামরুজ্জামান রতন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি নূর হোসাইন নূরানী পেয়েছেন তার দলীয় প্রতীক ‘রিকশা’, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. কামাল হোসেন পেয়েছেন ‘কাস্তে’, জাতীয় পার্টির মো. আরিফুজ্জামান দিদার ‘লাঙল’, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুল ‘কোদাল’, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুমন দেওয়ান ‘হাতপাখা’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন ‘ফুটবল’।
প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের আগে আচরণবিধি সংক্রান্ত সভায় প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী বর্ণনা তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম। পরে প্রার্থীরা নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও মতামত তুলে ধরেন। এসময় জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার আহবান জানান। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।


