১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | সকাল ৭:৪১
অভাব-অনটন থেকেই দুই মেয়েকে হত্যা, ঠাণ্ডা মাথায় স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা
খবরটি শেয়ার করুন:
93

মুন্সিগঞ্জ, ৯ জুলাই ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ৫ মাস বয়সী দুই জমজ মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যার ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শিশুদের মা। এর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নারী জানিয়েছেন, অভাব-অনটনের থেকে রাগের বশে নিজের শিশুদের হত্যা করেছেন তিনি। পরে স্বামীর উপর দায় চাপিয়েও সুবিধা করতে পারেননি।

আজ বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মুন্সিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হলে ওই দুই শিশুর মা শান্তা বেগম দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

নিহত দুই শিশুর চাচা আলামিন গতকাল মঙ্গলবার বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে নিহত শিশুর মা ও বাবাকে আটক করে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন)  মো. ফিরোজ কবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম উভয়কে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করাকালে নিহত দুই শিশুর মা শান্তা বেগম (২২) ঘুরেফিরে তার স্বামী মো. সোহাগ শেখ (৩৫) হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে জানিয়ে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে।

কিন্তু মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার রাতে ঘটনাস্থলে সোহাগ শেখের থাকার বিষয়ে কোন প্রমাণ পাচ্ছিলেন না। এ বিষয়ে সন্দেহ থেকেই নিহত শিশুদের মা শান্তা বেগমকে (২২) কে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তা বেগমের সাথে সোহাগের দুই বছর আগে বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু ছিলো। শান্তা গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময়ই তার পিতার বাড়িতে থাকত। নিহত শিশু লামিয়া ও সামিয়া (জমজ কন্যা সন্তান) জন্মগ্রহণ করায় শিশুদের পিতার স্বল্প আয় দিয়ে সংসার পরিচালনার পাশাপাশি বাচ্চাদের দুধ ও ঔষধ ক্রয় করতে হিমসিম খেতে হয়। ফলে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। ২ মাস পূর্বে শান্তা তার জমজ কন্যা সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ীতে আসেন। এসময় অভাব-অনটনের জেরে পারিবারিক কলহ আরও বৃদ্ধি পায়।

গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শান্তা বেগম তার স্বামীকে বাচ্চাদের দুধ ও ঔষুধ সহ কিছু খাবার আনতে বলে। সোহাগ বিষয়টি নিয়ে শান্তার সাথে ফোনে রাগারাখি করে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে শান্তা বেগম ঘুমন্ত বাচ্চা দুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের মধ্যে ঘুরতে থাকে এবং হঠাৎ প্রথমে শিশু লামিয়াকে ঘরের উত্তর পাশের দরজা দিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। এরপরপরই অপর শিশু কন্যা সামিয়াকেও একই স্থানে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

সেখানে বলা হয়, পরবর্তীতে শান্তা চিন্তা করতে থাকে কি করা যায়। শান্তা ভয়ে আঁতকে উঠে। অশরীরী এক ভয় তাকে ঘিরে ধরে। পরক্ষনেই সে নিজেকে সামলে নেয় এবং সু-কৌশলে কথাবার্তা কম বলে এবং খুনের প্রকৃত রহস্য আড়াল করে সকলের মনে তার স্বামী সোহেল শেখকে জড়িত করার হীন উদ্দেশ্যে তার স্বামীর সাথে তার পারিবারিক কলহের কথা উল্লেখ করে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ও নিকট আত্মীয় স্বজনসহ এলাকার লোকজনদেরকে তার স্বামী হত্যা করেছে মর্মে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের জন্ম দেওয়া যমজ শিশু বাচ্চাদ্বয়কে হত্যা এবং তার স্বামীকে ফাঁসানোর এই অভিপ্রায় পরাজিত হয় তার অনুশোচনা ও অনুতাপের কাছে। জিজ্ঞাসবাদের ফলে একসময় সে প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল পুকুর হতে বাচ্চার সাথে ফেলা কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত পুলিশ উদ্ধার করে।