১৪৬ বছর পার করলো হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজ
275

মুন্সিগঞ্জ, ২৭ মে ২০২৫, ডেস্ক রিপোর্ট (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের হাঁসাড়া গ্রামে অবস্থিত হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজ গতকাল (২৬ মে) ১৪৬ বছর পার করলো।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, বিজ্ঞানাচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, বিদুষী নারী সরোজিনী নাইডু, কৃতী সাঁতারু ব্রজেন দাস প্রমুখ পৃথিবী বিখ্যাত মনীষীদের স্মৃতিবিজড়িত বিক্রমপুর (বর্তমান নাম: মুন্সিগঞ্জ)।

বিক্রমপুর একসময় ছিল শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানে- ধনে অনন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্ঞানপিপাসুরা এখানে আসতো জ্ঞান আহরণ করার জন্য। সেই বিক্রমপুরের (মুন্সিগঞ্জ) সবচেয়ে প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠের নাম হাঁসাড়া কালী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়, যার বর্তমান নাম ‘হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজ’ স্থাপিত হয় ২৬মে, ১৮৭৯ সালে। প্রতিষ্ঠানটি তার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। আর এই সুমহান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন কালী কিশোর সেন চৌধুরী।

শিক্ষার প্রতি তিনি এতটাই অনুরাগী ছিলেন যে, জীবিত অবস্থায়ই তিনি তার সমুদয় সম্পত্তির অর্ধেক স্কুলের নামে উইল করে যান। বাকি অর্ধেক স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দিয়ে যান। এ ছাড়াও তিনি অনেক জমি ক্রয় করে প্রতিষ্ঠানের নামে দিয়েছিলেন। এই মহান শিক্ষানুরাগী, দানবীর কালী কিশোর সেনের পিতার নাম পিতাম্বর সেন এবং মাতার নাম শ্রীযুক্তা ঈশ্বরী।

১৮৭৯ সালের ২৬ মে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় বাংলার এক অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের শিক্ষা ইতিহাসে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়টা ছিল গ্রামীণ অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তার সীমিত ও কঠিন। তবে কালী কিশোর সেনের দূরদর্শিতা ও অদম্য প্রচেষ্টায় একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছিল, যা পরবর্তীতে আজকের পূর্ণাঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় তথা কলেজে পরিণত হয়েছে। ১৯১৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শাখার স্বীকৃতি লাভ এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও গুণমানের প্রমাণ।

বিদ্যালয়ের ১৪.৬৫ একর বিশাল ক্যাম্পাসে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি ও খেলার মাঠের সুবিধা রয়েছে। প্রায় ৪২টি শ্রেণিকক্ষের বিশাল তিনতলা ভবনে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জন করে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে। পদ্মা ও মেঘনা নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই প্রতিষ্ঠান শ্রীনগর ও বিক্রমপুর অঞ্চলের শিক্ষার আলো হিসেবে পরিচিত।

হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল থেকে বহু গুণীজন শিখে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। যেমন—সাবেক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পুলিন পাল, প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক পদ্মলোচন ঘোষ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পিতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী।

বিভিন্ন উৎসব ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও, এবারের ১৪৬তম জন্মদিন একেবারেই নীরবতায় কেটেছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রেজাউল হক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারেক দায়িত্ব পালন করলেও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ একধরনের সংকটে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার মান অবনতি হয়েছে, এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহ ও যত্ন কমে যাচ্ছে। কোনও সাংস্কৃতিক বা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্যের বোধ ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয়রা আশা করেন, বিদ্যালয়ের জন্য একটি সক্রিয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হোক, যাতে প্রতিষ্ঠানটি আবার নতুন করে জেগে ওঠে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ