মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ লাখ টাকার মালামাল লুট: ১৪ ডাকাত গ্রেপ্তার, জব্দ ২ ট্রাক
28

মুন্সিগঞ্জ, ১৬ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ১৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৪ জুলাই একই অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— শাহ আলম (২৩), রনি শিকদার (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), অলিউর রহমান (২৪), জামাল (৪০), মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মাইন উদ্দিন (৪৫), ছোটন (৩০), রিয়াজুল ইসলাম (২৬) এবং আবুল খায়ের (৪০)। তাদের স্থায়ী বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার তেজগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় অবস্থিত ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ প্রতিষ্ঠানে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাণ্ডব চালায়। পরে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল দুটি ট্রাকে করে লুট করে নিয়ে যায়।

লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল- বিভিন্ন সাইজের বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্সপাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি, ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে গজারিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে দুই দফায় ১৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ