মুন্সিগঞ্জে খাল খননে অনিয়ম: পানি থেকে তোলা মাটি পাড়ে রেখে চলছে কাজ, বৃষ্টিতে মিশে যাওয়ার শঙ্কা
মুন্সিগঞ্জ, ৩ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার কমলাঘাট (আব্দুল্লাপুর ইন্টারপুল) ভায়া সোনারং ইউপি-রহিমগঞ্জ বাজার আলদী স্টীল ব্রীজ বাজার মাকুহাটি বাজার টংগিবাড়ী খালের (সদর অংশ) খনন কাজে শুরুতেই চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে গত ১৩ এপ্রিল মিরকাদিম লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
তবে খনন কাজ শেষ হতে না হতেই দেখা গেছে অব্যবস্থাপনার চিত্র।
আজ বুধবার বিকালে সরেজমিনে মিরকাদিম লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে খাল থেকে কাদা-মাটি কাটার পর সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো খালের একদম পাড়েই স্তূপ করে জমিয়ে রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১০ দিন পরই বর্ষা মৌসুম শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাড়ে রাখা এই আলগা কাদা-মাটি ধুয়ে পুনরায় খালের বুকেই মিশে যাবে। ফলে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ের এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য যেমন ভেস্তে যাবে, তেমনি খালের নাব্যতাও আবার আগের চেয়ে আরও বেশি সংকটে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান সরকার বলেন, সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে এভাবে খালের পাড়ে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। যা স্পষ্টত প্রমাণ করে খাল খননের মত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কতটা অবহেলা করা হচ্ছে। মাটি কাটার পর তা যদি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার খালের তলদেশ ভরাট করে, তবে তা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং অবহেলা হিসেবে শাস্তিমূলক অপরাধের আওতায় পড়ে।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামানিক বলেন, খাল খননের কাজ শুরু করা হয়েছে নিয়ম মেনেই কিন্তু কুরবানির ঈদের জন্য আশপাশের জায়গার গরুর হাঠ বসার কারনে মাটি সরানোর জন্য ট্রাক পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই মাটি খালের পাশেই রাখা হয়েছে। আর ঈদের পর এখনও কাজটি শুরু হয়নি। আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত কাজটি সঠিক ও সুন্দর ভাবে চলমান হবে। সাময়িক অসুবিধা ও পরিবেশটি এখনও ঠিক না হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ঈদের পরেই পরিবেশ ঠিক করে যথাযথ পদ্ধতি মেনে কাজ করার জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে।









