মুন্সিগঞ্জে কোরবানির হাটে আসছে পশু, বিক্রি হবে অনলাইনেও
মুন্সিগঞ্জ, ১৩ জুলাই, ২০২১, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)
এবছর মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসছে। আগামী ২১ জুলাই ঈদকে কে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের কোরবানির হাটগুলোতে পশু উঠতে শুরু করেছে।
আগামী ১৭ জুলাই হাট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আগেভাগেই পশু নিয়ে হাটে আসছেন দেশের বিভিন্ন জেলার পশু বিক্রেতারা।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত খবর ও মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলার মুক্তারপুর হাটে কথা হয় পশুবিক্রেতা শাহজাহান এর সাথে। তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সিরাজগঞ্জ থেকে ১৪টি গরু নিয়ে নৌপথে হাটে এসেছেন। হাটে এখনো ক্রেতা সমাগম তৈরি হয়নি। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই হাট জমে উঠবে।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, মুন্সিগঞ্জ সদরে এবছর ৫টি অস্থায়ী হাট বসছে। এর মধ্যে ৩টি হাটের দর না পাওয়ায় পুনরায় ইজারা হবে। ইজারাদার না পেলে সরকারি খাস কালেকশন হবে। মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিসিকের গরুর হাট এবার হচ্ছে মুক্তারপুর ব্রিজ সংলগ্ন ফাকা স্থানে। উপজেলায় ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৭৯৫ টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়ে মুক্তারপুর হাটের ইজারা নিয়েছেন জোড়পুকুরপাড় এলাকার মোক্তার হোসেন।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী জানান, উপজেলায় মোট ৭ টি হাটের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে ১ টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী। এর মধ্যে ২ টি হাটের ইজারা না পাওয়ায় পুনরায় ইজারা হবে। ইজারাদার না পেলে খাস কালেকশন হবে অথবা হাট বাতিল করা হবে। অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবছর উপজেলায় ৮টি অস্থায়ী হাট বসছে। এর মধ্যে ৭টি হাটের ইজারা হয়েছে। ১ টি হাটের পুনরায় ইজারা হবে। ইজারাদার না পেলে খাস কালেকশন হবে। উপজেলায় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪ টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়ে ইছাপুরা হাটের ইজারা নিয়েছেন ইছাপুরা এলাকার সিরাজ বেপারী। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজকে পর্যন্ত ৬৯ টি পশু বিক্রি হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণব কুমার ঘোষ জানান, উপজেলায় ১টি স্থায়ী ও ৫ টি অস্থায়ী হাট বসছে। এর মধ্যে ২ টি হাটের পুনরায় ইজারা হবে আগামী ১৫ জুলাই। ইজারাদার না পেলে খাস কালেকশন হবে। উপজেলায় ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৭৯৫ টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়ে কেদারপুর হাটের ইজারা নিয়েছেন কাঁমারগাও এলাকার সিরাজ বেপারী। ইজারাদারদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে হাট পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছে। না মানলে হাট বন্ধ করে দেয়া হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজকে পর্যন্ত ১ হাজার পশুর ছবি আপলোড করা হয়েছে। ভালো সাড়া পাচ্ছি।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা পারভীনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হুমায়ুন কবির জানান, উপজেলায় ৬টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩ টি হাটের ইজারা হয়েছে। পুনরায় ইজারা হবে ৩টি’র। ইজারাদার না পাওয়া গেলে ৩টি হাট বাতিল করা হবে। উপজেলায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দর দিয়ে খিদিরপাড়া হাটের ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বেপারী। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপক কুমার রায় জানান, জেলায় ৪১টি হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কোন হাট বসতে দেয়া হবে না। অবৈধভাবে কেউ হাট বসাতে চাইলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন অনলাইনে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু বিক্রির ব্যবস্থা করেছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল জানিয়েছেন, জেলার ৬ টি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের মাধ্যমে ‘অনলাইন পশুর হাট’ নামে ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে বিক্রেতারা সরাসরি পশু বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতারা সরাসরি পরিদর্শন করে বা ফোনে আলোচনা করে পশু কিনতে পারবেন।





