মুন্সিগঞ্জে দিনে ৭-৮ বার, রাতে ৫-৬ বার লোডশেডিং, গ্রামে মোমবাতি বিক্রি বেড়েছে
মুন্সিগঞ্জ, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জে লোডশেডিং চরম আকারে পৌছেছে। নাগরিকদের অভিযোগ, বর্তমানে দিনের বেলা ৭-৮ বার, আর রাতে ৫-৬ বার লোডশেডিং হচ্ছে।
বিশেষ করে, গ্রাম এলাকায় এর মাত্রা আরও বেশি।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি ঘন্টায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
আবার গরমের কারনে লোডশেডিংয়ের বিরুপ প্রভাবের মুখে পড়ছেন নারী-শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও।
গ্রামাঞ্চলে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার কম থাকায় বিক্রি বেড়েছে মোমবাতির। অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিও কম নয়।
সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলা পড়তে বসলেও টানা পড়তে পারি না। প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং হয়, আবার রাতের বেলাতেও একই অবস্থা। ঘুমাতে গেলেও শান্তি নাই। সবদিক দিয়ে মানসিক অশান্তির মধ্যেই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
মোল্লাকান্দির মহেশপুর গ্রামের মুদি সদাইয়ের দোকানি শামসুল হক গাজী জানান, গত দুইদিন ধরে রাতের বেলা লোডশেডিং কয়েকগুণ বেড়েছে। গ্রামের দিকে ইলেক্ট্রনিক পণ্য কেনায় সকলে সামর্থ্যবান না, তাই মোমবাতির বিক্রি বেড়েছে।
তিনি বলেন, আজকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৭-৮ বার লোডশেডিং হয়েছে। ফ্রিজের আইসক্রিম গলে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গরমে বাসাবাড়িতে মানুষ থাকতে পারছে না। সবাই রাস্তায় বের হয়ে আসছে।
সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার গৃহবধূ তাসলিমা বেগম জানান, গরমের তীব্রতা গত পহেলা বৈশাখের পর থেকেই বেড়ে গেছে। এর মধ্যে দিনের বেলা চার থেকে পাঁচ ঘন্টার বেশি সময় কারেন্ট থাকে না। রান্নাবান্না করতে খুব কষ্ট হয়, ছোট ছেলেমেয়েদের শরীরে ঘামাচি ফুটে গেছে। বয়স্ক নারী ও পুরুষরাও ঘরে বিশ্রাম করার মতো অবস্থায় নেই।
সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দশকানি এলাকার ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প ব্যবসায়ী অপু ভূঁইয়া বলেন, টানা বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেন না। এক ঘন্টা কাজ করলে আরেক ঘন্টা তারা বেকার বসে থাকছেন। এতে তাদেরও মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে আর আমাদেরও উৎপাদন কমেছে। কর্মঘন্টা কমলেও শ্রমিকের মজুরি পুরো দিনেরই দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচও বাড়ছে।
মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন ১৯০-২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে আমরা পাচ্ছি ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। এতে আমাদের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে, তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এরপরও আমরা যেসব এলাকায় হামের টিকা মজুদ রাখা হচ্ছে সেখানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখছি, পাশাপাশি এসএসসি কেন্দ্রগুলোতে যাতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে সেই চেষ্টা করছি।





