আবারও দেশসেরা নারী সাঁতারু মুন্সিগঞ্জের মাইশা, ৮ স্বর্ণসহ ৫ রেকর্ড অর্জন
৩১

মুন্সিগঞ্জ, ১ নভেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

জাতীয় সাঁতারে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কৃতী সাঁতারু ফাতিহা মাহতাব মাইশা।

চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সেরা সাঁতারুর স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। গত জুলাইয়ে বয়সভিত্তিক জাতীয় সাঁতারে ১০টি স্বর্ণ ও চারটি জাতীয় রেকর্ড অর্জনের পর এবার ৩৫তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো প্রতিযোগিতায় পাঁচটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং তিনটি জাতীয় রেকর্ড গড়ে সেরা নারী সাঁতারু নির্বাচিত হয়েছেন।

২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয় ৩৫তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো প্রতিযোগিতা-২০২৬।

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের আয়োজনে চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বাহিনী, প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের সাঁতারুরা অংশ নেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান মাইশা।

এর আগে গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ৩৮তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতায়ও দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। ওই আসরে ১০টি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য পদক ও চারটি জাতীয় রেকর্ড অর্জন করে সেরা সাঁতারু নির্বাচিত হন মাইশা। ফলে একই বছরে দুটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় সেরা সাঁতারুর স্বীকৃতি অর্জন তাঁর ক্যারিয়ারে বিশেষ মাইলফলক হয়ে উঠেছে।

মাইশার সাফল্যের গল্প অবশ্য আরও আগে থেকে। গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের এই সাঁতারুর সাঁতারে হাতেখড়ি হয় তাঁর নানা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ও আন্তর্জাতিক সাঁতারু মো. সামছুল ইসলাম বাবুলের কাছে। ছোটবেলা থেকেই নানার কাছ থেকে সাঁতারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা পান তিনি।

২০২১ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তি হয়ে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন মাইশা। সেখানে থাকাকালে জুনিয়র পর্যায়ে দুটি জাতীয় রেকর্ডও গড়েন। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে জাতীয় যুব দলের ক্যাম্পে সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মেয়েকে বিকেএসপি থেকে সরিয়ে নেন তাঁর বাবা। এরপর ছয় মাসের বেশি সময় সাঁতারের বাইরে ছিলেন মাইশা।

পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণজয়ী সাঁতারু ও কোচ মাহফুজা আক্তার শিলার উদ্যোগে আবারও সাঁতারে ফেরেন তিনি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক সাঁতারু হিসেবে যুক্ত হন মাইশা। বর্তমানে নৌবাহিনীর কোচ মাহফুজা আক্তার শিলা, নিয়াজ আহমেদ, জুয়েল আহমেদ ও রুবেল আহমেদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

চলতি বছরের শুরুতে সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত মিনি অলিম্পিকেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মাইশা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

মাইশার বাবা মাহতাব উদ্দিন মাসুম বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী। মা সামছুন নাহার পপি। মেয়ের ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি আনন্দিত গজারিয়ার ক্রীড়াপ্রেমীরাও।

প্রত্যন্ত রসুলপুর গ্রাম থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক রেকর্ড গড়া মাইশার এই অর্জন মুন্সিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় গৌরব। তাঁর পরিবার ও প্রশিক্ষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবেন এই তরুণ সাঁতারু।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ