মুন্সিগঞ্জে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় CHOLO-এর অ্যাডভোকেসি সেশন
মুন্সিগঞ্জ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জে অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার মুন্সিগঞ্জ রয়েল ক্লাব লিমিটেডে CHOLO (Citizens for Humanity, Opportunity, Leadership & Outreach)-এর উদ্যোগে ‘সমতায় তারুণ্য (Shomotay Tarunno: Youth for Equality)’ প্রকল্পের আওতায় এ সেশনের আয়োজন করা হয়।
সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন, তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পরিবর্তনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন।
আলোচনায় জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করা, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ, ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোতা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মুন্সিগঞ্জ রয়েল ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি মো. দিদার হোসেন, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক নাজির আহম্মদ, মুন্সিগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. ভানভীর আল ইমাম হাসান, রামপাল মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক কাজী মহম্মদ আশরাফ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহজাহান শিকদার, মুন্সিগঞ্জ জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আল নূর ইসলাম এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ মোশাররফ হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক মো. মোস্তাফিজ ফিদাউল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক মো. শাহজাহান গাজী এবং মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লেখক, উন্নয়নকর্মী এবং CHOLO-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সাকিল ইমরান নির্ঝর।
এতে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফারহান আহমেদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক, প্রতিনিধি ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজন অংশ নেন।
সেশনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ, অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হলেই চলবে না; অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই, গণমাধ্যমের বার্তা বিশ্লেষণ এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার পথে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও ক্ষতিকর সামাজিক ধারণা বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। এসব বাধা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইনে নারীর প্রতি হয়রানি প্রতিরোধ, সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্বের বিকাশ, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, তরুণদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলে সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধান তৈরিতে তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তরুণদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়তা করার মাধ্যমে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ সুগম হতে পারে বলেও আলোচনায় মত প্রকাশ করা হয়।
CHOLO-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই এ ধরনের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও সংগঠনটি কাজ করছে।
অংশীজনদের আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া লিটারেসি এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে সেশনটি শেষ হয়।








