মুন্সিগঞ্জে খাল উদ্ধারের দাবিতে কৃষক-শ্রমিক-জনতার মানববন্ধন
মুন্সিগঞ্জ, ২ জুলাই ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
‘নদী-খাল থেকেও পানি নাই, জনজীবন বিপন্ন তাই, যদি সুস্থ থাকতে চাই, আড়িয়ল-টংগিবাড়ী খাল বাঁচাই’ এরকম নানা স্লোগানে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে খাল পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ‘টংগিবাড়ী খাল রক্ষা পরিষদ’সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে কয়েক শতাধিক মানুষ আড়িয়ল-টংগিবাড়ী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের দাবিতে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। একাত্মতা জানিয়ে অংশ নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন মানববন্ধনকারীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, টংগিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়ন এবং তার পাশ্ববর্তী এলাকায় একসময় অসংখ্য সরকারি খাল জালের মত ছড়িয়ে ছিল। এসব খাল দিয়ে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি নদীর পানি এই এলাকার প্রতিটি অঞ্চলে প্রবাহিত হতো। এতে করে সহজ নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাসহ জলজ উদ্ভিদ, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখিতে এসব অঞ্চল সমৃদ্ধ ছিল। স্থানীয় কৃষি জমি ছিল পলিযুক্ত ও উর্বর। তাতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ব্যতিত নানা প্রজাতির ফসলাদি উৎপন্ন হতো। কিন্তু বর্তমানে দখল- দূষণে সেই ঐতিহ্য একেবারেই হারিয়ে গেছে।
তারা জানান, এসকল খাল ছিল আড়িয়ল, বালিগাঁও, কলমা, ধীপুর, সোনারং-টংগিবাড়ি, আব্দুল্লাপুর, বেতকাসহ আশপাশের ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
মানববন্ধনকারীরা বলেন, খালগুলো দিয়ে ছোট লঞ্চ, পণ্যবাহী নৌকা, ট্রলার ইত্যাদি চলাচল করত। এই অঞ্চলের মানুষেরা লৌহজংয়ের বড় মোকাম হয়ে পদ্মা নদী, তালতলা হয়ে ইছামতি নদী এবং মিরকাদিম হয়ে ধলেশ্বরী নদীর মাধ্যমে জীবন ও জীবিকার তাগিদে দেশ-বিদেশে পারি জমাতো। গ্রামীণ পয়ঃনিষ্কাশনের পাশাপাশি এই খালগুলোর মাধ্যমে মৃত পশু-পাখি, ময়লা আবর্জনাও অপসারিত হতো। কিন্তু বর্তমানে উপজেলার সেসব সরকারি খাল অপরিকল্পিত বাঁধ আর অবৈধ দখলদারদের স্থাপনায় হারিয়ে গিয়ে কেবল সরকারি রেকর্ড হিসেবে পর্চা, খতিয়ান আর ম্যাপে স্থান পেয়েছে। তাই খালগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খননের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার করা হোক।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আড়িয়ল-টংগিবাড়ী খালসহ আরও কয়েকটি খাল উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। তারা সার্ভে করেছে, আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে উপজেলার সকল খাল দ্রুত পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।









