ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্বামীকে হত্যা করে নিজেই মামলার বাদী!
97

মাত্র ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করে স্বামীকে দুই জন কিলার দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে সেই হত্যা মামলার বাদী হন স্ত্রী নিজেই। পুলিশী তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে এসব লোম হর্ষক কাহিনী। পরকীয়ার জেরে অতিষ্ট হয়ে স্বামী মিঠুকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারক্তি করেছে স্ত্রী মুন্নী। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা সদর উপজেলার চকছাতিয়ানী গ্রামে। পুলিশ মামলার বাদী মিঠুর স্ত্রী মুন্নী (২৫) ও মিঠুর কথিত প্রেমিকা লাকিকে (১৯) আটক করে সোমবার বিকেলে আদালতে হাজির করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাবনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মুন্সি আবু কুদ্দুস জানান, গত ২১ জুলাই চাটমোহর থানার কাঠগড়া ব্রীজের নিচ থেকে নিখোঁজের একদিন পর মিঠুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় নিহত মিঠুর স্ত্রী মুন্নী বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪১। উক্ত মামলার ভিত্তিতে তদন্তকালে বেড়িয়ে আসে লোমহর্ষক কাহিনী। স্ত্রীর জিজ্ঞসাবাদে এ হত্যা কান্ডের সাথে নিজেই জড়িত বলে সন্দেহ হয়। তারই ভিত্তিতে গত ২৬ জুলাই বিকেলে নিহত মিঠুর স্ত্রী মুন্নিকে আটক করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মুন্নী স্বীকার করে এ হত্যা কান্ডের সাথে তার জড়িত থাকার কথা। এর প্রেক্ষিতে নিহত মিঠুর মা মোছাঃ ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মিঠুর স্ত্রী মুন্নী (২৫), ও তার সহযোগী মাঠপাড়ার তোফাজ্জল হোসেন সরদারের ছেলে সুজন (৩০), মাধপুর হাটবাড়িয়া মৃত আব্দল জব্বারের ছেলে হোসেন আলী কসাইসহ (২৭) অজ্ঞাতা নামা কয়েকজনকে আসামী করে ৩৬৪/৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫৬, তারিখ ২৬/০৭/১৫। উক্ত মামলা প্রেক্ষিতে মিঠুর স্ত্রী মন্নী ও কথিত প্রেমিকা লাকি খাতুনকে (২০) আটক করে তাদের প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার বিকেলে পাবনা জজ আদালতে হাজির করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি আদালতে রেকর্ড করা হবে।
ওসি তদন্ত আরো জানান, পারিবারিক অশান্তির কারনে মিঠুর স্ত্রী ২ জন ভাড়াটিয়া খুনিকে দিয়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মিঠুকে হত্যা করে। স্ত্রীর দাবী স্বামী একজন মাদকসেবী ছিলেন। মাদকসেবনের ফলে প্রায় বাড়িতে ভাংচুর করে চরম অশান্তি সৃষ্টি করত। শুধু তাই নয় লাকি নামের অন্য মেয়ের সাথে বাসাভাড়া করে থাকত। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বাধ্য হয় হত্যা কান্ডের পথ বেছে নিতে হয়েছে।