গাজীপুরে ৫ খুন: পরদিন ভোরে পদ্মা সেতু থেকে ঝাপ দেন একজন, ৩ দিন পর বিকৃত মরদেহ উদ্ধার হয় মুন্সিগঞ্জে
69

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যার আলোচিত ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফোরকানের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে। তবে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৯ মে (শনিবার) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা লেনে ১৫ নং পিলারের মাঝামাঝি জায়গায় এক ব্যক্তিকে ছাই রংয়ের একটি প্রাইভেটকার থেকে নামতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তি মুন্সিগঞ্জের দিকে পদ্মা নদীতে ঝাপ দেন।

সেতুতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে এ দৃশ্য দেখা যায়। সেতু কতৃপক্ষের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানায়।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পদ্মা নদীর মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা এলাকা থেকে আনুমানিক ২৫-৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। হাত-পা পঁচে যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া যায়নি। সেটি আসলে কার মরদেহ এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর গাজী জসিমউদ্দিন মরদেহ সংক্রান্ত চিঠি প্রাপ্তির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি এখনো দাফন হয়নি। মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে, গাজীপুর পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মেহেরপুর সদর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মাসেতুর মাঝামাঝি এলাকায় রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিয়ে নেন।’

পদ্মাসেতুর সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার জানান, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজন একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মায় ঝাঁপ দেন।

তদন্তে ওই ব্যক্তিকে ফোরকান মোল্লা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে,’ বলেন এসপি।

তবে, বাদীপক্ষের লোকজনকে মরদেহ দেখানো হলেও তারা এটি ফোরকানের মরদেহ কি না সে বিষয় নিশ্চিত করতে পারেননি। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে বলে জানান গাজীপুর পুলিশ সুপার।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ