৫ দিন আগে অভিযানে বন্ধ করা চুনা কারখানা আবার চালু- এবার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
মুন্সিগঞ্জ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগে পাঁচ দিন আগে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া একটি অবৈধ চুনা কারখানা আবার চালু করার পর এবার সেটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
একই অভিযানে কারখানাটি চালু রাখতে সহযোগিতার অভিযোগে জমির মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন ও একটি হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কারখানাটিতে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফসা নাদিয়া। এ সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সানোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল, পুলিশের সদস্য এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ওই কারখানায় বড় আকৃতির চুল্লিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ও কাঠ জ্বালিয়ে চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হচ্ছিল। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর একই কারখানায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ওই সময় কারখানাটি বন্ধ করে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রশাসনের দাবি, অভিযানের দুই দিন পর কারখানাটি আবার কার্যক্রম শুরু করে। পরে বৃহস্পতিবার সেখানে পুনরায় অভিযান চালিয়ে কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এখানে প্রতিনিয়ত কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এখানে অভিযান চালিয়ে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পুনরায় কারখানাটি চালু করায় জমির মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সহায়তার অভিযোগে আইমা এলপিজি ফিলিং স্টেশন ও ড্রাইভার হোটেলকে জরিমানা করা হয়েছে এবং তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।’









