সৎ, সাহসী ও পরিশ্রমী সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের জন্মদিন আজ
মুন্সিগঞ্জ, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
&আজ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের জন্মদিন। মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সাংবাদিক গ্রাম-বাংলা ঘুরে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম করে সংবাদ সংগ্রহ করতেন।
১৯৪৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রংপুর শহরের কেরাণীপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মোনাজাত উদ্দিন বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে সংযোজন করেছিলেন ভিন্ন মাত্রা।
সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রয়াসী ছিলেন চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন।
মোনাজাত উদ্দিন রংপুর কৈলাশরন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পিতার আকস্মিক মৃত্যু হলে বি.এ পাস করে তিনি পেশাগত জীবনে জড়িয়ে পড়েন।
সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন ‘দৈনিক রংপুর’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনা করেন।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ ও ‘দৈনিক আজাদ’ এর উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ‘দৈনিক সংবাদ’ এর উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি আলোকচিত্রও ধারণ করতেন। ফিচার এবং সংবাদের সাথে সংযোজিত তার তোলা ছবিগুলো অভূতপূর্ব।
লেখক হিসেবেও সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন ছিলেন অনন্য। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘শাহ আলম ও মজিবরের কাহিনি’, ‘পথ থেকে পথে’, ‘কানসোনার মুখ ও সংবাদ নেপথ্যে’, ‘পায়রাবন্দ শেকড় সংবাদ’ প্রভৃতি।
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য মোনাজাত জহুর হোসেন স্বর্ণপদক, ফিলিপস পুরস্কার ও একুশে পদক (মরণোত্তর) অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধার ফুলছড়ি ঘাটে সংবাদ সংগ্রহের সময় ফেরি থেকে পড়ে মারা যান মোনাজাত উদ্দিন। তবে তার মৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য থেকে গিয়েছে। আলোর মুখ দেখেনি সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন। খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো কূল-কিনারা। মৃত্যুর নেপথ্যে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না এমন প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যায়নি।


