৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৬:২৩
সিরাজদিখানে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, সিরাজদিখান প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

ডিসেম্বেরের শেষে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত শিশুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতাল গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অসংখ্য শিশু চিকিৎসা নিয়েছে ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত ১৭৫ শিশু ভর্তি হয়েছে।

এই সপ্তাহে সিরাজদিখানে বাড়তে শুরু করেছে ঠান্ডা, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগীর সংখ্যা। তবে এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

গতকাল সোমবার সকালে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সর্দিকাশিতে আক্রান্ত বেশ কিছু শিশুর মা-বাবা শিশুদের চিকিৎসা পাওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে আছেন। ওই ওয়ার্ডের সামনে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রাম থেকে আসা কান্নারত এক মাস ২৩ দিন বয়সী সন্তানকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন তার মা নীলা বেগম। তবে শিশু আব্দুল মোনায়েমের কান্না কোনোভাবেই থামাতে পারছেন না নীলা। ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিশুটির হাতে ক্যানোলা ঠোকানোর চেষ্টা করে সফল হন। পরে ওই ক্যানোলার মধ্য দিয়ে তাকে স্যালাইন দিলে কিছুক্ষণ পর শিশুটি শান্ত হয়।


শিশুটির বাবা আমিন ইসলাম বলেন, গত দুই দিন ধরে আব্দুল মোনায়েম ডায়রিয়ায় ভুগছে। বাড়িতে নানা ধরনের চিকিৎসা ও ওষুধ খাওয়ানো হলেও সে ভালো হয়নি। তাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে প্রতিদিনই ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে এ পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে ৬৫ জন রোগী দেখেছি।

অন্যদিকে, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশুরোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে থাকা ডা. বদিউজ্জামান বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করেছে ঠান্ডা, জ্বর ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্ম রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের এ ওয়ার্ড থেকে গত শনিবার ১১৫ জন এবং শনিবার সকাল ১২টা পর্যন্ত ৬৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি গরম কাপড় পড়া, রোগাক্রান্তদের থেকে আলাদা থাকা, বাসি খাবার না খাওয়ানোসহ শিশুদের প্রতি অধিক যত্নবান হওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বদিউজ্জামান জানান, ডায়রিয়া প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শিশুদের খাওয়ানোর আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। মায়ের শাড়ির আঁচল থেকে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু ছড়ায়। তাই শাড়ির আঁচলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এছাড়া সর্দিকাশি রোধে ঠন্ডা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। গায়ে জ্বর উঠলে দ্রুত চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হতে হবে।

error: দুঃখিত!